(ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান) ৭ম: মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি বন্ধুরা – সমাধান

মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি বন্ধুরা হচ্ছে ৭ম শ্রেণীর ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বই এর শিখন অভিজ্ঞতা। মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি বন্ধুরা অধ্যায়টির পাঠ্যবইয়ের প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি বন্ধুরা

কাজ-১: অনুসন্ধানের ধাপগুলো ক্রমানুসারে সাজানো।

কাজের নির্দেশনা:
শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে অনুসন্ধানের যে ধাপগুলোর কথা জেনেছে সেটা মনে করে কাজের ধাপগুলো ঠিক করে নিবে।

নমুনা সমাধান :

CamScanner 03 10 2024 18.08 1

কাজ-২: অনুসন্ধানের মাধ্যমে যারা বিদেশি হয়েও মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন তাদের কথা জেনে নেওয়া।

কাজের নির্দেশনা:
শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করবে, তারপর তা পর্যালোচনা করে ছকের মাধ্যমে শ্রেণিতে উপস্থাপন করবে।

নমুনা সমাধান:
বিদেশি হয়েও মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন তাদের কথা আমরা জানতে পারবো বিভিন্ন উৎস থেকে-

তথ্যের উৎস:
• বয়স্ক আত্মীয় বা প্রতিবেশী বা পরিচিত ব্যক্তি
• পাঠ্যবই
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই
• স্থানীয় লাইব্রেরি
• তখনকার পত্রপত্রিকা
• স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বিভিন্ন প্রকাশনা
• ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট

তথ্য পর্যালোচনা: বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে নিচের ছক তৈরি করবো-

সাইমন ড্রিং → বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু সাইমন ড্রিং। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিদের চালানো গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শী প্রথম বিদেশি সাংবাদিক, যিনি নিজের জীবন বিপন্ন করে হত্যাকান্ড ও ধ্বংসযজ্ঞের খবর সারা বিশ্বকে জানিয়ে দেন, যা মুক্তিযুদ্ধে জনমত গঠনে সহায়ক হয়েছিল।

ইন্দিরা গান্ধী → আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধীর সর্বাত্মক প্রয়াস ছিল অতুলনীয়। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশ সফর করে বাংলাদেশের পক্ষে মানবিক সহায়তা এবং সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে গেছেন।

জর্জ হ্যারিসন → বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে ভূমিকা গ্রহণে জর্জ হ্যারিসন এবং ভারতীয় সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশংকর ১৯৭১ সালের আগস্টের ১ তারিখ নিউইয়র্কের মেডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ আয়োজন করেন, যা আর্থিক সহায়তা এবং বিশ্বজনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

এডওয়ার্ড কেনেডি → এডওয়ার্ড কেনেডি ছিলেন মার্কিন সিনেটর। তিনি পাকিস্তানি বাহিনীদের চালানো গণহত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তিনি ভারতে, খুলনা সীমান্তের শরণার্থী শিবিরে স্বচক্ষে দেখেছেন মানুষের দুর্দশা। তিনি মার্কিন সিনেটে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের হুমকি মোকাবিলায় আহ্বান জানান এবং জাতিসংঘকে তৎপর হওয়ার তাগিদ। দেন। [তথ্যসূত্র: প্রথম আলো (১৩-১২-২০১৮)।

মাদার তেরেসা → মাদার তেরেসা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে অবস্থিত শরণার্থী শিবিরে মানুষের দুঃখ লাঘবে আপ্রাণ চেষ্টা করেন এবং বিশ্ববাসীর কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন করেন। তাঁর সেবা ও অগ্রণী ভূমিকার জন্য তিনি ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

লিওনিদ ব্রেজনেভ → লিওনিদ ব্রেজনেভ ছিলেন স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির মহাসচিব। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের অকৃত্রিম সাহায্য-সহযোগিতার পেছনে তার অবদান ছিল অতুলনীয়। সোভিয়েত ও ভারত মৈত্রী চুক্তি সম্পাদনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
[তথ্যসূত্র: বণিকবার্তা, মার্চ ১৭, ২০২১।

পণ্ডিত রবিশংকর → পণ্ডিত রবিশংকর বিখ্যাত ভারতীয় সেতারবাদক। মুক্তিযুদ্ধকালীন (১ আগস্ট, ১৯৭১) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মেডিসন স্কয়ারে জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে তিনি ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। তিনি কনসার্টের শুরুতে বাংলাদেশের পল্লিগীতির সুরে ‘বাংলা ধুন’ নামে একটা পরিবেশনা করেন।
[তথ্যসূত্র: প্রথমআলো, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮।

উইলিয়াম এস অডারল্যান্ড → মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া অস্ট্রেলীয় নাগরিক ছিলেন উইলিয়াম এস অর্ডারল্যান্ড। মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র বিদেশি ‘বীর প্রতীক’ তিনি। তিনি বাটা সু কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। পাকিস্তানি সেনাদের বর্বরতা এবং নির্যাতনের আলোকচিত্র তুলে গোপনে বর্হিবিশ্বের গণমাধ্যমে তুলে ধরেন এবং পাকিস্তানি সেনাদের গোপন সংবাদ সংগ্রহ করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, নগদ অর্থ, চিকিৎসা সামগ্রী দিয়েও তিনি সাহায্য করেছেন।
(তথ্যসূত্র: দ্যা ডেইলি স্টার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২২)

কাজ-৩: সম্ভাব্য প্রশ্নের তালিকা, তথ্য প্রাপ্তির উৎসের তালিকা এবং প্রাপ্ত তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি লেখা।

কাজের নির্দেশনা:
শিক্ষার্থীরা দলে বিভক্ত হয়ে, বিষয়ভিত্তিক সম্ভাব্য প্রশ্নের তালিকা তৈরি করবে, তারপর তথ্য প্রাপ্তির উৎসের তালিকা এবং প্রাপ্ত তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি লিখবে।

নমুনা সমাধান:
শিক্ষার্থীরা দলে বিভক্ত হয়ে নিচে উল্লেখিত বিষয়ভিত্তিক সম্ভাব্য প্রশ্নের তালিকা, তথ্য প্রাপ্তির উৎসের তালিকা এবং প্রাপ্ত তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি লিখেছে-

সম্ভাব্য প্রশ্নের তালিকা:
১ . মুক্তিযুদ্ধের সময় বিপুল শরণার্থী কোথায় এবং কীভাবে আশ্রয় নিয়েছিল?

২. অপারেশন সার্চলাইটের নৃশংস হত্যাকান্ডের খবর বিশ্বে কীভাবে ছড়িয়েছিল?

৩. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রথম সরকার গঠন ও মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনে কারা সাহায্য করেছিল?

৪. মুক্তিযুদ্ধে শিল্পী-সাহিত্যিকদের অবদান কেমন ছিল?

৫. মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি গণমাধ্যম ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা তুলে ধরো।

৬. মুক্তিযুদ্ধের সময় বিদেশি সাংবাদিকদের ভূমিকা কেমন ছিল?

৭. মুক্তিযুদ্ধে সাহায্যকারী মিত্র দেশগুলোর ভূমিকা তুলে ধরো।

৮. মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?

৯. আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা কেমন ছিল?

১০. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্ব রাজনীতি কেমন ছিল?

১১. ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ কোথায় আয়োজন করা হয়েছিল? কারা আয়োজন করেছিলো?

১২. ‘টেস্টিমনি অব সিক্সটি’ কী?

১৩. ‘অপারেশন ওমেগা’ কী?

১৪. মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা কেমন ছিল?

তথ্য প্রাপ্তির উৎস: ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন বই ৬ষ্ঠ অধ্যায় (মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি বন্ধুরা), বাংলাপিডিয়া, এনসাইক্লোপিডিয়া, বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা, যেমন: প্রথম আলো, ইত্তেফাক, দ্য ডেইলি স্টার এবং ইন্টারনেট ইত্যাদি।

তথ্য যাচাই পদ্ধতি: তথ্য যাচাই করার জন্য আমরা প্রথমে ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলন বইয়ের ৬ষ্ঠ অধ্যায় ‘মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি বন্ধুরা’ অধ্যায়টি ভালোভাবে পড়বো এবং প্রশ্নগুলোর সাথে মিল খোঁজার চেষ্টা করবো। পাশাপাশি বাংলাপিডিয়া, এনসাইক্লোপিডিয়া, দৈনিক পত্রিকা এবং ইন্টারনেটে বিষয়গুলো অনুসন্ধান করে তথ্যগুলো যাচাই করবো।