(বিজ্ঞান) ৬ষ্ঠ: রোদ, জল, বৃষ্টি – সমাধান

রোদ, জল, বৃষ্টি হচ্ছে ৬ষ্ঠ শ্রেণীর বিজ্ঞান বই এর ৪র্থ শিখন অভিজ্ঞতা। রোদ, জল, বৃষ্টি অধ্যায়টির পাঠ্যবইয়ের প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

রোদ, জল, বৃষ্টি

প্রথম সেশন
প্রয়োজনীয় সামগ্রী: কাগজ/খাতা, কলম, অনুশীলন বই, পেন্সিল, রং পেন্সিল, এক সপ্তাহের পত্রিকা (বা অন্য কোনো মাধ্যম)

ধাপ-১
কাজের ধারা

  • আমার প্রিয় দিন কোনটি তা ভাবি এবং ঐ দিনের একটি ছবি আঁকি।
  • বন্ধুদের সাথে আলোচনা করে দেখি আমার প্রিয় দিনের সাথে তাদের প্রিয় দিন মিলে যায় কিনা।

ধাপ-২
এক সপ্তাহ বাসায় কাজ করি-

কাজের ধারা

  • এক সপ্তাহ একটু খেয়াল করে দেখি আমাদের আবহাওয়া কীভাবে দিনের বিভিন্ন সময়ে পাল্টাতে থাকে! খোলা পরিবেশে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করে ছক-১ এ পর্যবেক্ষণের সময়, তাপমাত্রার ধারণা, গরমের অনুভূতি কেমন, আকাশের অবস্থা, বৃষ্টির সম্ভাবনা ইত্যাদি সম্পর্কে মন্তব্য লিখে রাখি।
  • রেডিও ও টেলিভিশনের খবর এবং পত্রিকা থেকেও এই এক সপ্তাহের আবহাওয়ার বিভিন্ন তথ্য নিচের ছক-২ এ নোট করি।

নমুনা উত্তর

CamScanner 01 10 2024 11.50 1
CamScanner 01 10 2024 11.50 2

প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন ও নমুনা উত্তর

প্রশ্ন-১: সকাল, বিকাল, সন্ধ্যা ও রাতে সবসময় আবহাওয়া কি একই রকম থাকে? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: কোনো স্থানের স্বল্প সময়ের বায়ুমণ্ডলের সার্বিক অবস্থাকে সে এলাকার আবহাওয়া বলে। সাধারণত সকাল, বিকাল, সন্ধ্যা ও রাতে আবহাওয়া একই রকম থাকে না। কারণ আবহাওয়া মূলত বায়ুচাপ, তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত এবং এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় আর্দ্রতার পার্থক্যের কারণে ঘটে। আবহাওয়া সকাল, বিকাল, সন্ধ্যা ও রাতে সূর্যের তাপমাত্রা একই রকম থাকে না। এই কারণে আর্দ্রতা ও – বায়ুমণ্ডলীয় চাপের পরিবর্তন ঘটে। তাই সকাল, বিকাল, সন্ধ্যা ও রাতে আবহাওয়া একই রকম থাকে না।

প্রশ্ন-২: দিনের কোন সময়ের আকাশ তোমার কাছে সবচেয়ে বেশি পছন্দের?
উত্তর: সকাল বেলার আকাশ আমার কাছে সবচেয়ে বেশি পছন্দের। কারণ মানুষ দিনের সকল ব্যস্ততা শেষে বাসায় ফিরে, রাতে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এই কারণে সকালের আকাশ পরিষ্কার দেখা যায়। খুব সকালে সূর্যের তাপ কম থাকে এবং সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি পৃথিবীতে পৌছায় না। সকালের বায়ুমণ্ডলে ধূলিকণা তেমন থাকে না। এই কারণে আমরা বায়ুমণ্ডলে থেকে পরিষ্কার অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারি।
সকালের বায়ুমণ্ডল দূষণমুক্ত থাকে। আর দূষণযুক্ত থাকলেও অতি অল্প পরিমাণে থাকে। দূষণমুক্ত থাকে বলেই আমরা সকালের আকাশ অনেক পরিষ্কার ও স্বচ্ছ দেখতে পাই। এসব কারণে সকালের আকাশ আমার কাছে সবচেয়ে বেশি পছন্দের।

প্রশ্ন-৩: দিনের আকাশে তোমরা কী কী পরিবর্তন দেখতে পাও?
উত্তর: দিনের আকাশে আমরা বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন দেখতে পাই। তা নিম্নে দেওয়া হলো-
i. সূর্যের তাপ কম-বেশি হয়।
ii. কখনো রোদ, কখনো মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশ দেখতে পাই।
iii. কখনো কখনো বৃষ্টিপাতও দেখতে পাই।
iv. আকাশে কখনো কখনো বজ্রপাত দেখতে পাই।
v. কোনো কোনো দিন রা সূর্যগ্রহণের মতো ঘটনা লক্ষ করা যায়।

প্রশ্ন-৪: আবহাওয়া কী কী কারণে দিনের বিভিন্ন সময়ে পাল্টাতে থাকে?
উত্তর: আবহাওয়া যেসব কারণে দিনের বিভিন্ন সময়ে পাল্টাতে থাকে তা নিম্নে দেওয়া হলো-
i. সূর্যালোকের প্রভাবে।
ii. বৃষ্টিপাতের কারণে।
iii. বায়ুর চাপের তারতম্যের কারণে।
iv. আর্দ্রতার পার্থক্যের কারণে।
v. নির্দিষ্ট স্থানে বিভিন্ন সময়ে সূর্যরশ্মির কোণের ভিন্নতার কারণে।
vi. বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণের ভিন্নতার কারণে।

প্রশ্ন-৫. দিনের বিভিন্ন সময় তাপমাত্রার কীরূপ পরিবর্তন ঘটে?
উত্তর: দিনের বিভিন্ন সময়ে তাপমাত্রা ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে তাপমাত্রা বৃদ্ধি শুরু হয়। সময় যত গড়াতে থাকে, রোদের প্রভাবে তাপমাত্রা তত বাড়তে থাকে, গরমের অনুভূতিও বৃদ্ধি পায়। সূর্যাস্ত হবার পরে তাপমাত্রা একটু একটু করে কমতে শুরু করে। এই সময়ে পৃথিবীপৃষ্ঠ সারাদিনের শোষিত তাপ বিকিরণ করা শুরু করে বলে তাপমাত্রার পরিবর্তন একটু ধীরগতির হয়, গরমের অনুভূতিও ধীরে ধীরে কমতে থাকে। দেখা যায় যে মধ্য বা ভোররাতে গরমের অনুভূতি। কম, ঠান্ডার অনুভূতি বেশি হয়। এভাবে দিনের বিভিন্ন সময় তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটে।

প্রশ্ন-৬. আবহাওয়ার খবর পরিবেশন করার সময় সাধারণত কোন তথ্যগুলো উপস্থাপন করা হয়ে থাকে?
উত্তর: কোনো স্থানের আবহাওয়ার খবর পরিবেশন করতে হলে সাধারণত সাতটি তথ্য উপস্থাপন করা হয়। যথা: কোনো অঞ্চলের বায়ুচাপ তথা ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা, পরবর্তী দিনের তাপমাত্রার পূর্বাভাস, বাতাসের গতি ও দিক, আপেক্ষিক আর্দ্রতা, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়, পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেশন
প্রয়োজনীয় সামগ্রী: কাগজ, কলম, অনুশীলন বই, অনুসন্ধানী পাঠ, পরীক্ষণ সামগ্রী (পরীক্ষণ কার্যক্রমের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে)।

ধাপ-১
কাজের ধারা

  • আবহাওয়ার তথ্য নোট রাখতে গিয়ে বায়ুর তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, বাতাসের আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, বায়ুপ্রবাহের দিক ইত্যাদি নতুন পরিচিত শব্দ নিয়ে ক্লাসে আলোচনা করি।
  • বায়ুপ্রবাহের দিক পরীক্ষার জন্য একটি উইন্ডভেন তৈরি করি।

পরীক্ষার নাম: বায়ু প্রবাহের দিক নির্ণয়

প্রয়োজনীয় উপকরণ
i. শক্ত বাঁশের কঞ্চি
ii. পিন বা লৌহ শলাকা
iii. প্লাস্টিকের শক্ত স্ট্র বা পাইপ
iv. শক্ত কাগজ বা কাগজের পাতলা কার্ডবোর্ড
v. ছুরি

কার্যপ্রণালি
i. শক্ত বাঁশের কঞ্চিকে মসৃণ করে কেটে নিই। চিকন লম্বা কাঠির মতো করে এর শীর্ষে বা মাথায় একটি লম্বা, সৰ্ব পিন প্রবেশ করাই।
ii. পিন কাঠির ভিতরে প্রবেশ করানোর পূর্বে শত্রু প্লাস্টিকের পাইপ আড়াআড়ি শলাকায় গেঁথে দিই।
iii. প্লাস্টিকের পাইপের এক মাথায় শক্ত কাগজ বা কাগজের পাতলা কার্ডবোর্ড কেটে দিক নির্দেশক তীর যুক্ত করি।
iv. এবার কোনো উঁচু বিল্ডিং এর খোলা ছাদে অথবা বিস্তৃত খোলা মাঠে তৈরি করা (উইন্ডভেন) বাঁশের কঞ্চিটি পুঁতে দিই। দেখা যাবে বাতাস যেদিকে বইছে তীর চিহ্ন সেদিকে মুখ করে আছে।

সতর্কতা: প্লাস্টিকের পাইপটি যাতে খুব সহজেই ঘুরতে পারে সেদিকে লক্ষ রাখি।

ধাপ-২
কাজের ধারা

  • বায়ুচাপ বোঝার জন্য একটি পরীক্ষা করি

পরীক্ষার নাম: বায়ুচাপের পরীক্ষা

তত্ত্ব: ভূপৃষ্ঠের উপরস্থ যেকোনো বস্তু বা স্থানের উপর বায়ুমণ্ডল একক ক্ষেত্রফলে যে চাপ প্রয়োগ করে সেটাই বায়ুচাপ।

উপকরণ: গ্লাস, পানি, শক্ত কাগজ বা কাগজের কার্ডবোর্ড।

কার্যপ্রণালি
i. একটি গ্লাস কানায় কানায় পানি দিয়ে পূর্ণ করি।’
ii. গ্লাসের মুখের উপর একটি শক্ত কাগজ বা কাগজের কার্ডবোর্ড আটকাই বা হাত দিয়ে চেপে ধরি।
iii. এবার দ্রুততার সাথে গ্লাসটি উল্টাই।

পর্যবেক্ষণ: পানিসহ গ্লাসটি উল্টে থাকা সত্ত্বেও পানি পড়ছে না।

সিদ্ধান্ত: বায়ু সবদিক থেকে সমান চাপ দেয়।

CamScanner 01 10 2024 11.50 3

চিত্র: বায়ুচাপের পরীক্ষা

প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন ও নমুনা উত্তর

প্রশ্ন-১. বায়ুর তাপমাত্রা কী?
উত্তর: বায়ুর উষ্ণতার পরিমাপকে বায়ুর তাপমাত্রা বলা হয়।

প্রশ্ন-২. বায়ুপ্রবাহ কী?
উত্তর: চাপের পার্থক্যের জন্য বায়ু সর্বদা উচ্চ চাপের স্থান থেকে নিম্নচাপের স্থানে প্রবাহিত হয়। ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে বায়ুর এ চলাচলকে বায়ুপ্রবাহ বলে।

প্রশ্ন-৩. বায়ুচাপ কী?
উত্তর: ভূপৃষ্ঠের উপরস্থ যেকোনো বস্তু বা স্থানের উপর বায়ুমণ্ডল একক ক্ষেত্রফলে যে চাপ প্রয়োগ করে তা-ই হলো বায়ুচাপ।

প্রশ্ন-৪. বায়ু প্রবাহের দিক কীসের সাহায্যে নির্ণয় করা যায়?
উত্তর: উইন্ড ভেন যন্ত্রের সাহায্যে।

প্রশ্ন-৫. বায়ুর আর্দ্রতা কী?
উত্তর: নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো স্থানের বায়ুর একক আয়তনে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের পরিমাণকে ঐ স্থানের বায়ুর আর্দ্রতা বলে।

প্রশ্ন-৬. বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: কোনো স্থানের একক ক্ষেত্রফলে নির্দিষ্ট পরিমাণ সময়ে (সাধারণত ২৪ ঘণ্টা) সংগৃহীত বৃষ্টির পানির উচ্চতাকে ঐ স্থানের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বলা হয়।

চতুর্থ ও পঞ্চম সেশন
প্রয়োজনীয় সামগ্রী: কাগজ, কলম, অনুশীলন বই, অনুসন্ধানী পাঠ, আগের দুই সপ্তাহের আবহাওয়ার বুলেটিন।।

ধাপ

কাজের ধারা

  • গত এক সপ্তাহের আবহাওয়ার তথ্যগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করি। এ থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্যাটার্ন বোঝার চেষ্টা করি।
  • এই প্যাটার্ন অনুসারে পরবর্তী এক সপ্তাহের আবহাওয়ার পূর্বাভাস তৈরি করি।
  • তৈরি করা আবহাওয়ার পূর্বাভাসের সারসংক্ষেপ অনুশীলন বইয়ের নির্দিষ্ট ছকে টুকে রাখি।
CamScanner 01 10 2024 11.50 4

প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন ও নমুনা উত্তর

প্রশ্ন-১. আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগ ঘটিয়ে কোনো নির্দিষ্ট স্থানের একটি নির্দিষ্ট সময় পর আবহাওয়ার অবস্থা কীরূপ হতে পারে তা অনুমান করাকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলে।

প্রশ্ন-২. আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস কীভাবে সাহায্য করে?
উত্তর: আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস নানাভাবে সাহায্য করে। যেমন-
i. কোন দিন কেমন ধরনের কাপড় পরা আরামদায়ক হবে তা জানতে পারি।
ii. বাইরে বের হতে হলে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে পারি।
iii. আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী জেলেরা মাছ ধরার প্রস্তুতি নেয়।
iv. আবহাওয়ার পূর্বাভাস জেনে নৌযান ও আকাশ যান চলাচল করে।
এভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কাজকর্মকে প্রভাবিত করে।

ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম সেশন
প্রয়োজনীয় সামগ্রী: কাগজ, কলম, অনুশীলন বই, অনুসন্ধান পাঠ, তিনটি ঢাকনাসহ কাচের জার/ কাচের বোতল, তিনটি থার্মোমিটার (থার্মোমিটারটি যেন কাচের জার বা কাচের বোতলে প্রবেশ করানো যায়), দুইটি পাতা ও ভিনেগার বা লেবুর রস, পরীক্ষণ সামগ্রী (পরীক্ষণ কার্যক্রমের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে)।

ধাপ-১

CamScanner 01 10 2024 11.50 5

কাজের ধারা

  • প্রতি বছর যে একই ঋতু আর একই রকম আবহাওয়া দেখা যায় তা দীর্ঘ সময়ের ক্ষেত্রেও সত্য কিনা সে সম্পর্কে ক্লাসে আলোচনা করি।
  • অনুশীলন বইয়ে দেওয়া বাংলাদেশ, মালদ্বীপ ও আইসল্যান্ডের তিনটি ভিন্ন সময়ের গড় তাপমাত্রা নিয়ে বন্ধুর সাথে আলোচনা করি।
  • সময়ের সাথে দেশগুলোর তাপমাত্রার পরিবর্তনের মধ্যে মিল খুঁজে বের করি।
  • আলোচনার ফলাফল অনুশীলন বইয়ের নির্দিষ্ট ছকে লিখে রাখি।

নমুনা উত্তর

CamScanner 01 10 2024 11.50 6

ধাপ-২
কাজের ধারা

  • ধাপ-১ এর আলোচনার ফলাফল ক্লাসের অন্যদের সাথে শেয়ার করি এবং অনুসন্ধানী পাঠ বই থেকে জলবায়ু অংশটুকু পড়ে আলোচনা করি।
  • জলবায়ু পরিবর্তনের বড় নির্দেশক হলো তাপমাত্রার পরিবর্তন। এখন তাপমাত্রা পরিবর্তনের কারণ এবং বায়ুমণ্ডলের তাপ ধরে রাখার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে একটি পরীক্ষা করি।

পরীক্ষার নাম: গ্রিনহাউস ইফেক্টের কারণ অনুসন্ধান।

উপকরণ: তিনটি ঢাকনাসহ কাচের জার/ কাচের বোতল, তিনটি থার্মোমিটার (থার্মোমিটারটি যেন কাচের জার বা কাচের বোতলে প্রবেশ করানো যায়।)

কার্যক্রম-১:
কার্যপ্রণালি: তিনটি কাচের জার পরিষ্কার করে খোলা স্থানে সূর্যালোকে (রোদে) রেখে থার্মোমিটার দিয়ে জারের ভিতরের বায়ুর তাপমাত্রা মেপে নিই। এরপর তিনটি জারের ভিতরের বায়ুর তাপমাত্রার ছকে নোট করি।

নমুনা উত্তর

CamScanner 01 10 2024 11.50 7

পর্যবেক্ষণ: তিনটি জারেই কাছাকাছি তাপমাত্রা রয়েছে।

কার্যক্রম-২

কার্যপ্রণালি:
(i) এবার প্রথম জারের মুখ খোলা রেখে বাকি দুটো জারের মুখ আটকে দিই। তৃতীয় জারের মুখ আটকানোর আগে এতে এক টুকরো ভেজা কাপড় বা টিস্যু রেখে দিই।
(ii) তিনটি জারকেই আধাঘণ্টা রোদে রাখি। আধাঘণ্টা পরে তিনটি জারেরই ভেতরে থাকা থার্মোমিটারের তাপমাত্রার মান রেকর্ড করি।

নমুনা উত্তর :

CamScanner 01 10 2024 12.22

পর্যবেক্ষণ: জার তিনটির তাপমাত্রার পার্থক্য দৃশ্যমান।

কার্যক্রম-৩

কার্যপ্রণালি : বন্ধুর সাথে আলোচনা করে তিনটি জারের তাপমাত্রা পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে আমাদের মতামত ছকে লিখে রাখি।

নমুনা উত্তর

CamScanner 01 10 2024 11.50 8

ধাপ-৩
কাজের ধারা

  • মানুষের যেসব কাজের জন্য গ্রিনহাউস গ্যাস বেড়ে যায় স্কুলে বা বাড়িতে আসা যাওয়ার পথে সেগুলো খেয়াল করি।
  • এসব কাজ এবং এর সাথে গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধির সম্পর্ক অনুশীলন বইয়ের নির্দিষ্ট ছকে নোট করি।

নমুনা উত্তর :

CamScanner 01 10 2024 11.50 9

ধাপ-৪

বাড়ির কাজ-

কাজের ধারা

  • গাছের দুইটি পাতা নিই। প্রথম পাতায় কয়েক ফোঁটা পানি, আর দ্বিতীয় পাতায় কয়েক ফোঁটা অ্যাসিড (ভিনেগার বা লেবুর রস) দিয়ে রেখে দিই।
  • কয়েক ঘণ্টা বা একদিন পর পাতা দুইটি ভালো করে খেয়াল করে দেখি এবং সংশ্লিষ্ট ছকটি পূরণ করি।

CamScanner 01 10 2024 11.50 10

প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন ও নমুনা উত্তর

প্রশ্ন-১. জলবায়ু কাকে বলে?
উত্তর: কোনো এলাকার একটি লম্বা, নির্দিষ্ট সময়ের গড় আবহাওয়াকে ঐ এলাকার জলবায়ু বলে। তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত জলবায়ু বিষয়ে জানার প্রধান দুইটি উপাদান।

প্রশ্ন-২. পৃথিবীজুড়ে জলবায়ুর পরিবর্তনের পক্ষে প্রমাণ কী?
উত্তর: পৃথিবীজুড়ে জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রধানত দুটি নির্দেশক রয়েছে।- যথা: গড় তাপমাত্রা ও গড় বৃষ্টিপাত। বিভিন্ন সময়ের পৃথিবীব্যাপী গড় তাপমাত্রা ও গড় বৃষ্টিপাত পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে পৃথিবীর সর্বত্র তাপমাত্রা বাড়ছে। ফলে বৃষ্টিপ্রবণ এলাকাগুলোতে অতিবৃষ্টি এবং খরাপ্রবণ এলাকাগুলোতে তীব্র খরা দেখা যাচ্ছে। এ সকল তথ্য উপাত্ত থেকে পৃথিবীজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের পক্ষে প্রমাণ উত্থাপন করা যায়।

প্রশ্ন-৩. গ্রিনহাউস গ্যাসগুলোর নাম লেখো।
উত্তর: জলীয় বাষ্প, কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) মিথেন (CH4) নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O), ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন ওজোন গ্যাস (O3) , ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CPC)। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলোর মধ্যে কার্বন ডাইঅক্সাইড এর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।

প্রশ্ন-৪. গ্রিনহাউস ইফেক্ট কী?
উত্তর : সূর্য থেকে আসা তাপশক্তিকে আটকে রেখে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার প্রতিক্রিয়াকে গ্রিনহাউস ইফেক্ট বা প্রতিক্রিয়া বলে। গ্রিনহাউস ইফেক্ট বলতে মূলত তাপ আটকে রেখে পৃথিবীর সার্বিক তাপমাত্রার বৃদ্ধিকে বোঝায়।

প্রশ্ন-৫. বিশ্ব উষ্ণায়ন কী?
বিশ্ব উষ্ণায়ন বলতে বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রার ক্রমান্বয় বৃদ্ধিকে বোঝানো হয়ে থাকে। অর্থাৎ পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাকেই বলা হয় বিশ্ব উষ্ণায়ন।

প্রশ্ন-৬. গ্রিনহাউস গ্যাসগুলো কি আমাদের জন্য প্রয়োজনীয়? কেন?
উত্তর: গ্রিনহাউস গ্যাস তাপমাত্রা ধরে রেখে বায়ু তথা পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে। কিন্তু মনে রাখতে হবে বায়ুমণ্ডলের গ্যাসগুলো আমাদের জন্য প্রয়োজনীয়। স্বাভাবিক পরিমাণের চেয়ে গ্যাসগুলোর পরিমাণ বেড়ে গেলেই কেবল তা ক্ষতিকর। জলীয়বাষ্প, মিথেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাসগুলো বায়ুমণ্ডলে না থাকলে বা কমে গেলে বাতাস তাপ ধরে রাখতে পারত না। এতে প্রচন্ড শীতে কেবল আমরা নয় সমগ্র প্রাণিজগতই কাবু হয়ে যেত।

এছাড়া আমরা জানি কার্বন ডাইঅক্সাইডের সাহায্যে গাছ খাদ্য তৈরি করে এবং এ খাদ্যই সমগ্র প্রাণিজগতে খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে সরবরাহ হয়। জলীয়বাষ্প সৃষ্টি না হলে বৃষ্টিও হতো না। বৃষ্টির অভাবে সমগ্র পৃথিবী মরুময় হয়ে যেত, থাকত না কোনো গাছপালা। সুতরাং সঠিক মাত্রায় গ্রিনহাউস গ্যাসগুলো ক্ষতিকর নয় বরং এগুলো বায়ুমণ্ডলে মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পেলেই তা জীব ও পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

নবম সেশন
প্রয়োজনীয় সামগ্রী: কাগজ, কলম, অনুশীলনী বই, অনুসন্ধানী পাঠ বই ইত্যাদি।

ধাপ-১
কাজের ধারা

  • আগের সেশনে গাছের পাতায় অ্যাসিড দেয়ায় গাছের পাতার যে পরিবর্তন দেখেছ তা ক্লাসের বাকিদের সাথে শেয়ার করি।
  • পাশের বন্ধুর সাথে মিলে ‘পাঠ সহায়ক বিষয়বস্তুর প্রস্তুতি’ থেকে অ্যাসিড বৃষ্টির অংশটুকু পড়ি।
  • অ্যাসিড বৃষ্টির কারণ নিয়ে শিক্ষকসহ বাকিদের সাথে আলোচনা করি।

ধাপ-২

কাজের ধারা

  • আগের সেশনে গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধিতে আমাদের ভূমিকা নিয়ে যোগাড় করা তথ্য নিয়ে দল গঠন করে আলোচনা করি।
  • আলোচনার মাধ্যমে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ শনাক্ত করি যেগুলো চাইলেই প্রতিকার করা যায়।
  • কারণগুলো প্রতিকারে, পরিকল্পনা দাঁড় করাই এবং চিন্তাগুলো ছকে লিখে রাখি।

নমুনা উত্তর:

CamScanner 01 10 2024 11.50 11

আরো পড়োআকাশ কত বড়?
আরো পড়োগতির খেলা

প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন ও নমুনা উত্তর

প্রশ্ন-১. অ্যাসিড বৃষ্টি কী?
উত্তর: বৃষ্টির পানির সাথে অ্যাসিড (সালফিউরিক এসিড, নাইট্রিক এসিড প্রভৃতি) বা অ্যাসিড জাতীয় উপাদান মিশ্রিত থাকলে তাকে অ্যাসিড বৃষ্টি বলে।

প্রশ্ন-২. অ্যাসিড বৃষ্টি কেন হয়?
উত্তর: মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলে সালফার ও নাইট্রোজেনের অক্সাইড উৎপন্ন হয়। এগুলো অক্সিজেন, জলীয়বাষ্প/পানি কণার সাথে বিক্রিয়া করে সালফিউরিক অ্যাসিড এবং নাইট্রিক অ্যাসিড উৎপন্ন করে যা বৃষ্টির পানির সাথে মিশে অ্যাসিড বৃষ্টি সৃষ্টি করে। অর্থাৎ, মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলেই মূলত অ্যাসিড বৃষ্টি হয়।

প্রশ্ন-৩. অ্যাসিড বৃষ্টির ফলে উদ্ভিদসহ জীববৈচিত্র্যের উপর সংঘটিত প্রভাব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: উদ্ভিদসহ জীববৈচিত্র্যের উপর অ্যাসিড বৃষ্টির প্রভাব হলো:
i. উদ্ভিদের পাতায় ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়।
ii. অনেক ক্ষেত্রে বনভূমি ধ্বংসের সম্মুখীন হয়।
iii. জলজ পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হয়।
iv. মানুষের বিভিন্ন চর্মরোগ হতে পারে।

প্রশ্ন-৪. অ্যাসিড বৃষ্টির ক্ষতিকর প্রভাব রোধে আমরা কী কী করতে পারি?
উত্তর: অ্যাসিড বৃষ্টির ক্ষতিকর প্রভাব রোধে আমরা নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি-
i. সালফারযুক্ত জ্বালানির ব্যবহার যথাসম্ভব কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে পারি।
ii. বিভিন্ন যানবাহন এবং ভারী যন্ত্রপাতি চালাতে নিম্ন সালফারযুক্ত জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করা।
iii. ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহনের ব্যবহার বৃদ্ধি করা।
iv. শিল্পকারখানা থেকে নির্গত গ্যাস থেকে সালফার অপসারণ করার পর বায়ুমণ্ডলে নির্গমন করা।

পরিকল্পনামাফিক কাজের বাস্তবায়নে সৃষ্ট অনুভূতি

কার্যক্রম-১
তোমাদের দলের পরিকল্পনা কী ছিল? পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তোমার অভিজ্ঞতা কেমন হলো?

নমুনা উত্তর
(i) দলের পরিকল্পনা ছিল জলবায়ুর ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পিছনের কারণ বের করা এবং পারলে তা সমাধানের উপায় খোজা।
(ii) বাতাসে বিভিন্ন গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া বেড়ে যাচ্ছে। বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা ভয়ঙ্কর ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কার্যক্রম-২
কোনো চ্যালেঞ্জে কি পড়েছো? চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তোমার দল কী উদ্যোগ নিয়েছে?

নমুনা উত্তর
এ রকম গুরুত্বপূর্ণ কোনো সমস্যা সমাধানে কিছু বাধা তৈরি হতে পারে। এজন্য প্রথমে কিছু পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। যেমন-
i. সবাইকে শেখানোর মাধ্যমে সচেতন করা।
ii. ছোট ছোট পরীক্ষণের মাধ্যমে গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়ার ভয়াবহতা বোঝানো।
iii. অল্প করে কাজ ভাগ করে নিয়ে তা নিজেদের মধ্যে শেষ করা।

কার্যক্রম-৩
জলবায়ুর ভারসাম্য নষ্ট হয় এমন আর কোনো বিষয় কি তোমার চোখে পড়েছে? এর সমাধানে কী করা যায় বলে তুমি মনে করো?

নমুনা উত্তর
মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলে জলবায়ুর উপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। বড় বড় কল-কারখানা নদীর তীরবর্তী স্থাপিত হওয়ায় নদী ও তার আশপাশের পরিবেশ নষ্ট করছে যা জলবায়ুর উপর প্রভাব ফেলে। এর সমাধানে সচেতন হতে হবে। আর যেসব কাজ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর তার বিকল্প উপায় খুঁজে বের করতে হবে। সব কাজ কতটা পরিবেশবান্ধব কাজটি করার আগে সেটি খতিয়ে দেখতে হবে।