Breaking News
সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়

(সমাজকর্ম-১ম) এইচএসসি: সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়’র সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয় হচ্ছে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী অর্থাৎ এইচএসসি’র সমাজকর্ম ১ম পত্রের চতুর্থ অধ্যায়। সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয় অধ্যায় থেকে বাছাইকৃত সেরা ৫টি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়’র সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন ১ : জনাব আলী সম্প্রতি চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণের পর এক সাথে অনেক টাকা তার প্রতিষ্ঠান থেকে পেয়েছে। এটাই তার বৃদ্ধ বয়সের নিরাপত্তা। অন্যদিকে কেরামত ৬৫ বছর বয়সে গ্রামে জেলা অফিস থেকে মাসিক ১০০০ টাকা পায়। যা তাকে সারা মাসের খরচ যোগাতে সাহায্য করে।

ক. সমাজ সেবা কী?
খ. ‘দানশীলতা ত্রুটিমুক্ত নয়’ ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে সমাজকর্মের কোন প্রত্যয়ের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে এর শ্রেণিবিভাগ লিখ।
ঘ. সমাজ কর্মের সাথে উক্ত প্রত্যয়ের সম্পর্ক আলোচনা কর।

১ নং প্রশ্নের উত্তর

ক. সমাজের মানুষের কল্যাণ সাধনের লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের বাস্তবায়নকে সমাজসেবা বলা হয়।

খ. দানশীলতা ত্রুটিমুক্ত নয়, কারণ দানশীলতার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দান ব্যক্তির ইচ্ছানির্ভর বিচ্ছিন্ন ও অসংগঠিত সেবামূলক কার্যক্রম। এক্ষেত্রে দাতার উদ্দেশ্যই মুখ্য, গ্রহীতার প্রয়োজন ও সমস্যার প্রতি কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ প্রথা স্বাবলম্বন নীতিতে বিশ্বাসী নয়। ফলে এর মাধ্যমে মানুষের কর্মস্পৃহা নষ্ট হয় এবং ব্যক্তি পরনির্ভরশীল হয়ে ওঠে। এটি মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ও ব্যক্তিত্ব গঠনের পরিপন্থী।

গ. উদ্দীপকে সমাজকর্মের সামাজিক নিরাপত্তাকে নির্দেশ করা এবং ৩টি বিষয় বা কর্মসূচি এর অন্তর্ভুক্ত।
সামাজিক নিরাপত্তা মূলত বিপর্যয়কালীন সময়ে মানুষকে অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করে। আধুনিককালে ৩টি বিষয় বা কর্মসূচিকে সামাজিক নিরাপত্তার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো- সামাজিক বিমা, সামাজিক সাহায্য ও স্বাস্থ্য সমাজসেবা।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব আলী তার চাকরি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে অনেক টাকা পেনশন পেয়েছেন এবং কেরামত বয়স্ক ভাতা হিসেবে মাসিক ১০০০ টাকা পান। যা উভয়ের জন্যই সামাজিক নিরাপত্তা হিসাবে কাজ করছে। এ ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩ ধরনের কর্মসূচি লক্ষ্য করা যায়। এর মধ্যে সামাজিক বিমা হচ্ছে বার্ধক্য, অক্ষমতা, পেশাগত দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার সংবিধিবদ্ধ ঝুঁকি থেকে নাগরিকদের রক্ষা কর্মসূচি। আর বার্ধক্য সাহায্য, অন্ধ সাহায্য, পারিবারিক সাহায্য পরিকল্পনা প্রভৃতি সামাজিক সাহায্যের অন্তর্ভুক্ত সামাজিক নিরাপত্তার অন্য একটি শ্রেণি সাস্থ্য ও সমাজসেবা, যা সমস্যাগ্রস্ত জনগণের কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন প্রতিকার প্রতিরোধ ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত। উদ্দীপকে উল্লেখিত জনাব আলীর পেনশন প্রাপ্তি সামাজিক বিমা এবং কেরামতের বয়স্ক ভাতা সামাজিক সাহায্যের মধ্যে পড়ে। এ সব কার্যক্রম দেশের নাগরিকদের বৃদ্ধ বয়সের নিরাপত্তা হিসেবে কাজ করে।

ঘ. সমাজকর্মের সাথে উক্ত প্রত্যয় অর্থাৎ সামাজিক নিরাপত্তার নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান।
সমাজকর্ম ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রত্যয় দুটি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সমাজকর্ম আজ যে পেশাদার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে তা অনেকটাই সম্ভব হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রবর্তনের কারণে। মূলত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যে সমাজকর্মের আধুনিকতার বীজ রোপিত। সমাজকর্ম ও সামাজিক নিরাপত্তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রায় এক ও অভিন্ন সমাজকর্মের অন্যতম লক্ষ্য হলো মানুষকে সামাজিক ভূমিকা পালনে সহায়তা করা। সমাজকর্ম যেমন মানুষের প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি সমস্যা সমাধানপূর্বক সুখী ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলে তেমনি সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র ও অসহায় শ্রেণির মৌল-মানবিক চাহিদা পূরণ ও উন্নত জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করে সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
উদ্দীপকের জনাব আলী ও কেরামত যথাক্রমে পেনশন ও বয়স্কভাতা প্রাপ্তির মাধ্যমে বৃদ্ধ বয়সে আর্থিক নিরাপত্তা পাচ্ছে। এটি উক্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের জন্য অর্থনৈতিক প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা। সমাজকর্ম ব্যক্তি ও পরিবারকে এই অধিকার ও নিরাপত্তা লাভে বিশেষভাবে সহায়তা করে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, একটি উন্নত সমাজ গঠনে সমাজকর্ম যে কল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হয় সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন কর্মসূচি সেই পদক্ষেপকে যথার্থভাবে রূপায়ন করে।

সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়’র সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন ২ : শীতকালীন ছুটিতে জনাব আসাদ সাহেব ফেনী থেকে তার পরিবার নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়ে ‘সিগাল’ নামে একটি হোটেলের দু’টি কক্ষ ভাড়া নেন। যেখানে অর্থের বিনিময়ে ইচ্ছা অনুযায়ী যতদিন থাকতে চাইৰে ততদিন থাকা যায়। আর জনাব মুসলেম সাহেবও একই সাথে কক্সবাজারে গিয়ে তার বন্ধুর বাসায় তিন দিন থাকেন। আসার সময় আসাদ সাহেব ও মুসলেম সাহেবের পরিবার একই সাথে বাসযোগে ঢাকা চলে আসেন।

ক. ওয়াকফ শব্দের অর্থ কী?
খ. সামাজিক নিরাপত্তা বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকে আসাদ সাহেবের সিগাল হোটেল সনাতন সমাজকর্মের কোন সংস্থাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. আসাদ সাহেব ও মুসলেম সাহেবের কক্সবাজারে অবস্থানের দিক দু’টির তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।

২ নং প্রশ্নের উত্তর

ক. ‘ওয়াকফ’ শব্দের অর্থ হলো আটক।

খ. সামাজিক নিরাপত্তা বলতে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির আর্থিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে রাষ্ট্র প্রদত্ত আয়ের ব্যবস্থাকে বোঝায়। মূলত দ্রুত পরিবর্তনশীল ও শিল্পায়িত সমাজব্যবস্থায় অসুস্থতা, বেকারত্ব, দরিদ্রতা, উপার্জন অক্ষমতা, পেশাগত দুর্ঘটনা, মানসিক প্রতিবন্ধিতা ও অন্যান্য বিপদাপদের কারণে অসুবিধাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে গৃহীত আর্থিক বা অন্যভাবে সহায়তাভিত্তিক কার্যক্রমই হলো সামাজিক নিরাপত্তা। বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রভৃতি সামাজিক নিরাপত্তার উদাহরণ।

গ. উদ্দীপকে আসাদ সাহেবের সিগাল হোটেল সনাতন সমাজকর্মের সরাইখানাকে নির্দেশ করে।
সাধারণ অর্থে ‘সরাইখানা’ হচ্ছে বিশ্রামাগার। সরাইখানা রাস্তার পাশে নির্মিত আশ্রয়কেন্দ্র যেখানে ক্লান্ত পথিক, পীর, ফকির, দরবেশ, পর্যটক প্রভৃতি শ্রেণির মানুষের বিনামূল্যে ও নিরাপদে বিশ্রাম, খাদ্য, পানীয় সরবরাহ ও চিকিৎসা প্রদান করা হতো। সরকারি উদ্যোগে এটি চালানো হতো।
আধুনিককালে সরাইখানার অস্তিত্ব নেই। তবে প্রয়োজনীয়তার কথা অনুভব করে সরাইখানার মতো বিভিন্ন সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি হয়েছে। যেমন পর্যটকদের জন্য আবাসিক হোটেল, রেস্ট হাউস, সার্কিট হাউস প্রভৃতি। তবে সরাইখানায় বিনামূল্যে খাদ্য ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা থাকলে বর্তমানে সরাইখানা ধারণা থেকে উদ্ভূত প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থের বিনিময়ে সেবা প্রদান করে। এগুলোতে অর্থের বিনিময়ে যতদিন ইচ্ছা থাকা যায়। উদ্দীপকের আসাদ সাহেব কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে পরিবারসহ সিগা হোটেলের কক্ষ ভাড়া করে থেকেছেন। এতে অর্থের বিনিময়ে যতদিন খুশি থাকা যায়। এ ধরনের হোটেল সনাতন সরাইখানা ধারণা থেকে উদ্ভূত হয়েছে। তাই বলা যায়, আসাদ সাহেবের সিগাল হোটেল সনাতন সরাইখানাকে নির্দেশ করছে।

ঘ. উদ্দীপকের আসাদ সাহেবের অবস্থান সনাতন সমাজকর্মের সরাইখানা বা বর্তমান হোটেল ব্যবস্থা এবং মুসলেম সাহেবের অবস্থান চিরায়ত প্রথা বন্ধু ও আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে অবস্থানকে নির্দেশ করেছে।
প্রাচীন ও মধ্যযুগে পরিশ্রান্ত পথিক ও পর্যটকদের আশ্রয়ের জন্য সরকারি উদ্যোগে স্থাপিত ও পরিচালিত আশ্রয় কেন্দ্র সরাইখানা নামে পরিচিত ছিল। তবে আধুনিককালে এ ধারণা পরিবর্তিত হয়ে আশ্রয়ের জন্য আবাসিক হোটেল, রেস্ট হাউস, সার্কিট হাউস প্রভৃতি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, যাতে অর্থের বিনিময়ে অবস্থান করা যায়। আর সেই প্রাচীনকাল থেকেই বন্ধু বা আত্মীয়-স্বজন, পরিচিত জনদের বাসায় রাত্রি যাপনের রীতি প্রচলিত রয়েছে। যার মাধ্যমে ধর্মীয় রীতিনীতি, সংস্কৃতি, মানবিকতা, মূল্যবোধের চর্চা ও প্রয়োগ গতিশীল থাকে।
উদ্দীপকের আসাদ সাহেবের হোটেলে অবস্থান অর্থাৎ পর্যটক হিসাবে সুবিধা গ্রহণ ব্যবসাকে নির্দেশ করে। কিন্তু মুসলেম সাহেবের বন্ধুর বাড়িতে অবস্থান রীতিনীতি, সামাজিক সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনকে নির্দেশ করে। বর্তমান আবাসিক হোটেল, রেস্ট হাউস এক ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের রূপ লাভ করেছে যা নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে সেবা প্রদান করে। কিন্তু বন্ধুর বাসা, আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিতজনদের বাসায় অবস্থানের ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক সম্পর্ক নেই বরং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হওয়া একটি উপায় এটি। হোটেল কর্মী বা ব্যবস্থাপনার আর্থিক সম্পর্কটাই মুখ্য। কিন্তু আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে অবস্থানে মায়া মমতা, ভালোবাসা ও সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটে। উদ্দীপকের আসাদ সাহেব ও মুসলেম সাহেবের যথাক্রমে আবাসিক হোটেলে ও বন্ধুর বাড়িতে অবস্থানের ক্ষেত্রে এই ঘটনাগুলোই ঘটেছে।
সুতরাং বলা যায়, আবাসিক হোটেল, রেস্ট হাউজ, সার্কিট হাউসের মতো ব্যবসায়িক আবাসন ব্যবস্থার চেয়ে বন্ধু বা আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে অবস্থান উত্তম, যা সামাজিক সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটেছে।

সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়’র সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন ৩ : কবি মুকুন্দ দাশের স্বদেশি আন্দোলন এ দেশের জাতীয় জীবনে ব্যাপক পরিবর্তন সূচিত করেছিল। রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের চিন্তাধারাও সমাজজীবনে নবজাগরণের সৃষ্টি করেছিল। তেমনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এদেশের স্বাধীনতা এনেছিল, যা সমাজজীবনে ব্যাপক পরিবর্তন সূচিত করেছে।

ক. সমাজ সংস্কারের সংজ্ঞা দাও।
খ. সমাজ সংস্কার আন্দোলন গড়ে ওঠার একটি কারণ ব্যাখ্যা করো।
গ. রাজা রামমোহন ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের চিন্তাধারার প্রভাবে সৃষ্ট নবজাগরণ সামাজিক পরিবর্তনের কোন উপাদানের ইঙ্গিত বহন করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন সমাজ পরিবর্তনের কোন উপাদানের প্রভাব? বিশ্লেষণ করো।

৩ নং প্রশ্নের উত্তর

ক. সমাজ সংস্কার হলো সামাজিক প্রতিষ্ঠানের পুনর্বিন্যাস অথবা বৃহত্তর সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা বা যেকোনো প্রত্যাশিত পরিবর্তনের লক্ষ্যে পরিচালিত কার্যক্রম।

খ. সমাজ সংস্কার আন্দোলন গড়ে ওঠার একটি কারণ হলো কুপ্রথা ও কুসংস্কার।
সমাজসংস্কার একটি ক্রমিক ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সমাজে বিদ্যমান কুপ্রথা ও কুসংস্কার যখন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনকে ব্যাহত করে তখন সেই প্রথা ও সংস্কারকে ইতিবাচকভাবে পরিবর্তন করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে। যেমন- সতীদাহ প্রথা। এ প্রথায় স্বামীর চিতায় জীবন্ত স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারা হত। এ কুপ্রথা এমন ভয়াবহ আকার ধারণ করে যা দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজন পড়ে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সমাজ সংস্কার আন্দোলন গড়ে ওঠে। তাই দেখা যায় যে, বুপ্রথা ও কুসংস্কার সমাজসংস্কার আন্দোলন গড়ে ওঠার একটি মুখ্য কারণ।

গ. রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের চিন্তাধারার প্রভাবে সৃষ্ট নবজাগরণ প্রকৃতিগত সামাজিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।
সামাজিক পরিবর্তন বলতে সামাজিক রীতি-নীতি, আইন, সামাজিক মিথস্ক্রিয়া, সামাজিক প্রক্রিয়া এবং সামাজিক সংগঠনের মধ্যকার পরিবর্তনকে বোঝায়। এই পরিবর্তন দুভাবে ঘটতে পারে। যেমন প্রকৃতিগত সামাজিক পরিবর্তন এবং পরিকল্পিত সামাজিক পরিবর্তন। প্রকৃতিগত সামাজিক পরিবর্তন মূলত প্রাকৃতিক, পরিবেশগত, স্বাভাবিক এবং অপরিকল্পিত প্রভৃতি উপায়ে হয়ে থাকে সমাজে এ ধরনের পরিবর্তনের ফলে ইতিবাচক ও নেতিবাচক ফল আসতে পারে। এ ধরনের পরিবর্তনে একটা আধ্যাত্মিকতার বিষয় দেখা যায়। উদ্দীপকে বর্ণিত রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সতীদাহ প্রথা রদ ও বিধবা বিবাহ নামে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন, যা সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল। এ ধরনের সংস্কারমূলক আন্দোলন অপেক্ষাকৃত অনুন্নত সমাজের মানুষদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করেছিল।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের চিন্তাধারার প্রভাবে সৃষ্ট নবজাগরণে সামাজিক পরিবর্তনের প্রকৃতিগত উপাদানের প্রভাব বিদ্যমান।

ঘ. বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন সমাজ পরিবর্তনের উপাদান হিসেবে পরিকল্পিত সামাজিক পরিবর্তনের প্রভাব রয়েছে।
পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে পরিকল্পিত পরিবর্তন সাধন করা হয় বলে সমাজে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও কল্যাণ সাধন করা সম্ভব হয়। এ পরিবর্তন সব সময় উদ্দেশ্যমূলক এবং পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে অভিযোজন করতে পারে। এর ফলে অনেক সময় নতুন ধরনের সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা হয়। যেমন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে আমাদের দেশের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব হয়েছে। আর এটা ছিল তার পরিকল্পিত সামাজিক পরিবর্তনের অংশ। কারণ তিনি জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণকে একত্রিত করেছিলেন এবং স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক লাল-সবুজের পতাকা সমৃদ্ধ একটি দেশ পেয়েছি।
পরিশেষে বলা যায়, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সমাজ পরিবর্তনের পরিকল্পিত উপাদনের প্রভাব ছিল।

সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়’র সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন ৪ : সাধ্যাতীত খরচ করে অষ্টাদশী রাধিকা দাসের বিয়ে দেওয়া হলো। বছর তিনেক স্বামীর সংসারে সুখেই কাটলো। বিপত্তি ঘটলো তখনই যখন মাত্র তিনদিনের জ্বরে রাধিকার স্বামী মারা গেলেন। বিধবার বেশে রাধিকা দাস ফিরে এলো দরিদ্র বাবার বাড়িতে। অর্থাভাব এবং মেয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে বাবা-মা সিদ্ধান্ত নিলেন রাধিকাকে পুনরায় বিয়ে দেবার। অবশেষে যতীন দাস নামের এক স্কুল শিক্ষকের সাথে রাধিকার বিয়ে সম্পন্ন হয়।

ক. ওয়াকফ এর সাথে সব থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটির নাম লিখ।
খ. ‘সামাজিক নিরাপত্তা’ ধারণাটি বুঝিয়ে লিখ।
গ. উদ্দীপকের যতীন দাসের সাথে রাধিকার সাসের বিয়ের ঘটনার সাথে কোন সমাজ সংস্কারকের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. অষ্টাদশ শতাব্দীতে জন্ম নিলে রাধিকা দাসের অবস্থা কীরূপ হতে পারত? তোমার বক্তব্য দাও।

৪ নং প্রশ্নের উত্তর

ক. ওয়াকফ এর সাথে সব থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটির নাম হলো দেবোত্তর।

খ. সামাজিক নিরাপত্তা বলতে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির আর্থিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে রাষ্ট্র প্রদত্ত আয়ের ব্যবস্থাকে বোঝায়। দ্রুত পরিবর্তনশীল ও শিল্পায়িত সমাজব্যবস্থায় অসুস্থতা, বেকারত্ব, দরিদ্রতা, উপার্জন অক্ষমতা, পেশাগত দুর্ঘটনা, মানসিক প্রতিবন্ধিতা ও অন্যান্য বিপদাপদের কারণে অসুবিধাগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে গৃহীত আর্থিক বা অন্যভাবে সহায়তাভিত্তিক কার্যক্রমই হলো সামাজিক নিরাপত্তা। বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রভৃতি সামাজিক নিরাপত্তার উদাহরণ।

গ. উদ্দীপকে যতীন দাসের সাথে রাধিকা দাসের বিয়ের ঘটনা সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
সাধারণত বিবাহিত নারীর স্বামী যদি মৃত্যুবরণ করে তাহলে দ্বিতীয় কোনো পুরুষের সাথে ঐ নারীর পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়াকে বিধবা বিবাহ বলা হয়ে থাকে। তৎকালীন ভারতীয় সমাজে কোনো কারণে স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর পুনরায় বিবাহ করা ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যেহেতু সে সময় বাল্যবিবাহ চালু ছিল সেহেতু অল্প বয়স্ক নারী বিধবা হলে তাকে আজীবন বৈধব্য নিয়ে থাকতে হতো। তারা পিতা বা ভাইদের সংসারে অথবা শ্বশুর বাড়ি বা অন্য কোথাও অন্যের গলগ্রহ হয়ে মানবেতর জীবনে বাধ্য হতো। নারীদের এ সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ও অসহায়ত্ব ঈশ্বরচন্দ্রকে বিধবা বিবাহ প্রচলনে উদ্বুদ্ধ করে।
উদ্দীপকে রাধিকার প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর দরিদ্র বাবার বাড়িতে ফিরে এলো। বিধবা রাধিকার আবার তার বাবা-মা বিয়ে দিল যতিন দাসের সাথে- যাকে আমরা বিধবা বিবাহ বলে বিবেচনা করি। আর এই বিধবা বিবাহের প্রচলন সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সমাজ সংস্কারমূলক কর্মকাণ্ডকে নির্দেশ করে।

ঘ. অষ্টাদশ শতকে যেহেতু বিধবা বিবাহের প্রচলন ঘটেনি সেহেতু রাধিকা দাসকে অবশ্যম্ভাবী মানবেতর জীবন যাপন করতে হতো।
তৎকালীন ভারতীয় সমাজে কোনো কারণে স্বামী মারা গেলে স্ত্রীর পুনরায় বিবাহ করা ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যেহেতু সময় বাল্যবিবাহও চালু ছিল সেহেতু অল্প বয়স্ক নারী বিধবা হলে তাকে আজীবন বৈধব্য নিয়ে থাকতে হতো। তারা পিতা বা ভাইদের সংসারে অথবা শ্বশুর বাড়ি বা অন্য কোথাও অন্যের গলগ্রহ হয়ে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হতো। তারা অনেক সময় নানাবিধ পাপাচার ও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত হয়ে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করত। জজীবন ও জীবিকার তাগিদে তারা পতিতাবৃত্তি গ্রহণে বাধ্য হতো।
উদ্দীপকে রাধিকা দাস যদি অষ্টাদশ শতকে জন্ম নিতেন তাহলে রাধিকা দাসকে অন্যান্য বিধবা নারীদের মতো তাকেও পতিতাবৃত্তি গ্রহণসহ মানবেতর জীবন-যাপন করতে হতো। পরিশেষে বলা যায় যে, অষ্টাদশ শতকে বিধবা নারীদের অবস্থা ছিল করুণ। তারা অন্যের গলগ্রহ হয়ে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হতো।

সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়’র সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন ৫ : শিক্ষা জীবন শেষে অনেক চেষ্টা করেও মারুফ কর্মসংস্থানের কোনো সন্তোষজনক ব্যবস্থা করতে না পেরে বেশ হতাশ হয়ে পড়ল। অবশেষে ভাগ্যান্বেষণে একদিন সে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমালো। সৎপথে কঠোর পরিশ্রম করে পাঁচ বছর পর যখন সে দেশে ফিরলো তখন সে মোটামুটি সম্পদশালী ব্যক্তি। মারুফের গ্রামের ইমাম সাহেব বললেন যে, মারুফের সম্পদে গরিবের হক রয়েছে। তাই প্রতি বছরই তার সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর নির্দেশিত শ্রেণির মধ্যে বিলিয়ে দেওয়াটা মানুষের কর্তব্য।

ক. দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণকারী কী নামে পরিচিত?
খ. বায়তুল মাল কাকে বলে? বুঝিয়ে লেখ।
গ. উদ্দীপকে মানুষের সম্পদ বিলিয়ে দেওয়া কোন অর্থ ব্যবস্থাকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উক্ত অর্থ ব্যবস্থাটির অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিক গুরুত্ব ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী’– বিশ্লেষণ করো।

৫ নং প্রশ্নের উত্তর

ক. দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণকারী সেবায়েত নামে পরিচিত।

খ. ‘বায়তুল মাল’ হলো রাষ্ট্রীয় কোষাগার। ‘বায়তুল মাল’ একটি আরবি শব্দ যার অর্থ হলো সম্পদের ঘর। বায়তুল মাল বলতে ইসলামি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় কোষাগার বা তহবিলকে বোঝায়। খোলাফায়ে রাশেদিনের আমলে জনকল্যাণের জন্য গঠিত রাষ্ট্রীয় সাধারণ তহবিলকে বায়তুল মাল নামে অভিহিত করা হয়।

গ. উদ্দীপকে মানুষের সম্পদ বিলিয়ে দেওয়া ইসলামি অর্থ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত যাকাতকে নির্দেশ করে।
ইসলামি সমাজব্যবস্থায় সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যাকাত অন্যতম। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের পর কোনো ব্যক্তির কাছে নির্দিষ্ট পরিমাণ (নিসাব পরিমাণ) অর্থ একবছর যাবত সম্বিত থাকলে তার নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর নির্ধারিত পথে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যয় করাই হলো যাকাত। যাকাতের নিসাব হলো সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা সমমূল্যের সম্পদ। যাকাত বছরে একবার দেওয়া হয়। এটি সঞ্চিত সম্পদের আড়াই শতাংশ হিসাবে দরিদ্রদের দান করা হয়। এটি ধনীদের ওপর গরিবদের অধিকার।
উদ্দীপকের মানুষ যেহেতু সম্পদশালী সেহেতু তার সম্পদের ওপর গরিবের হক রয়েছে। তাই প্রতি বছর তার সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর নির্দেশিত শ্রেণির মধ্যে বিলিয়ে দেওয়াটা মানুষের কর্তব্য। এতে বোঝা যায়, মানুষের সম্পদ বিলিয়ে দেওয়া ইসলামি অর্থব্যবস্থায় যাকাতকে ইঙ্গিত করছে।

ঘ. উক্ত ইসলামি অর্থব্যবস্থাটি অর্থাৎ যাকাতের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিক গুরুত্ব ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী।
যাকাত অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রাপ্তসম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার সুষম বন্টনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে। এতে সম্পদ সমাজের মুষ্টিমেয় লোকদের মধ্যে কুক্ষিগত হতে পারে না। তাছাড়া যাকাতের মাধ্যমে সমাজের স্বচ্ছ জনগণের আয়ের একটি অংশ দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করার ফলে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীভূত হয়। সমাজের কল্যাণ করতে হলে প্রথমে দরকার অর্থনৈতিকভাবে জনগণের কল্যাণ সাধন করা। যাকাত মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধনে সহায়তা করে থাকে। আবার যাকাতের সামাজিক গুরুত্ব তাৎপর্যপূর্ণ। যাকাত সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টনের মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি গড়ে তোলে। যাকাত সম্পদশালী ব্যক্তিদের জন্য প্রদেয় ফরজ কাজ। যাকাত যেমন একটি অর্থনৈতিক কর তেমনি এটি একটি সামাজিক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। অন্যদিকে যাকাত সমাজের দরিদ্র মুসলমানদের কল্যাণে সম্পদশালী মুসলমানদের কী ভূমিকা ও দায়িত্ব রয়েছে তা শুধু নির্ধারণই করে না বরং তা পালনে তাদেরকে বাধ্য করে। দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলার মাধ্যমে যাকাত মানুষের নৈতিক উন্নয়ন সাধনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মানুষ সম্পদশালী হওয়ার পর প্রতিবছর সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দেওয়া তার কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কাজটি যাকাতকে নির্দেশ করছে যা সমাজের আর্থ সামাজিক ও নৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, উদ্দীপকের অর্থব্যবস্থা অর্থাৎ যাকাত সমাজের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

About admin

Check Also

মানব-কল্যাণ

(সাহিত্যপাঠ) এইচএসসি: মানব-কল্যাণ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

মানব-কল্যাণ হচ্ছে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর অর্থাৎ এইচএসসি’র সাহিত্যপাঠের আবুল ফজল এর প্রবন্ধ। মানব-কল্যাণ প্রবন্ধ থেকে বাছাইকৃত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *