Breaking News
মদিনার পথে

(বাংলা) অষ্টম শ্রেণি: মদিনার পথে রচনার সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

মদিনার পথে হচ্ছে অষ্টম শ্রেণীর সাহিত্য কণিকা বই এর মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর রচনা। মদিনার পথে রচনা থেকে বাছাইকৃত সেরা ৫টি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

পাঠ-পরিচিতি (Summary) :
‘মদিনার পথে’ রচনাংশটি মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত ‘মরুভাস্কর’, গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। আলোচ্য অংশে হযরত মুহম্মদ (স.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের কাহিনি বিবৃত হয়েছে।
হযরত মক্কায় ইসলামের সত্যবাণী প্রচার শুরু করলে মক্কাবাসী তাঁর এবং নবদীক্ষিত মুসলমানদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালাতে থাকে। এমনকি, নিজেদের ধর্ম বিকৃত হওয়ার ভয়ে শেষ পর্যন্ত হযরতকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে। তিনি তখন প্রিয় সঙ্গী হযরত আবু বকর (রা)- কে সঙ্গে নিয়ে সকলের অগোচরে জন্মভূমি মক্কা ছেড়ে ইয়াসরিব অভিমুখে যাত্রা করেন। ইয়াসরিববাসী হযরতকে সাদরে গ্রহণ করেন এবং তাঁর সম্মানার্থে ইয়াসরিবের নতুন নামকরণ করেন, ‘মদিনাতুন্নবি’ (নবির শহর) সংক্ষেপে মদিনা।

মদিনার পথে রচনার সৃজনশীল

অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন ১ : যুবায়ের দাড়িয়াপুর গ্রামের হতদরিদ্র একজন শান্তিপ্রিয় কৃষক। পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত ত্রিশ শতাংশ আবাদি জমি চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে। গ্রামের ভূমিদস্যু মাতব্বর মহসীন সরকার তার জমি দখলের চেষ্টা করে। যুবায়ের নিজের শেষ সম্বল রক্ষার জন্য প্রতিবাদী হয়ে উঠে। মাতব্বর মহসীন সরকার মিথ্যে মামলা দিয়ে যুবায়েরকে হয়রানি করতে থাকে। যুবায়ের মামলার ভয়ে পরিবার নিয়ে অন্য গ্রামে চলে যায়।

ক. ‘মদিনার পথে’ রচনাটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
খ. ‘বিলম্বে শিকার হাতছাড়া হইতে পারে’ বলতে কী বুঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে যুবায়ের এর গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে চলে যাওয়া এবং ‘মদিনার পথে’ রচনার বিষয়বস্তু অভিন্ন নয়- ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শান্তিপ্রিয় ও প্রতিবাদী দিকটি কীভাবে ‘মদিনার পথে’ রচনাটিতে বিদ্যমান- বিশ্লেষণ কর।

১ নং প্রশ্নের উত্তর

ক. ‘মদিনার পথে’ রচনাটি মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত ‘মরুভাস্কর’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।

খ. ‘বিলম্বে শিকার হাতছাড়া হতে পারে’ বলতে হযরত মুহম্মদ (স.) মক্কা ছেড়ে মদিনায় চলে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
হজরত মুহম্মদ (স.) মক্কায় ইসলামের সত্যবাণী প্রচার শুরু করলে নবদীক্ষিত মুসলমানদের ওপর অকথ্য নির্যাতন শুরু হয়। এক পর্যায়ে হজরত মুহম্মদ (স.) মক্কা ত্যাগ করে মদিনায় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ সংবাদ শত্রুদের নিকট পৌঁছে গেলে সেই রাতেই মক্কার সভাগৃহ দারুন নদওয়ার সভায় তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় আবু জেহেলের প্রস্তাব ছিল- সব গোত্রের সাহসী যুবকরা একযোগে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর বাড়ি ঘেরাও করে তাকে হত্যা করবে। এক্ষেত্রে কোনো প্রকার বিলম্ব করা যাবে না। কারণ বিলম্বে শিকার হাতছাড়া হতে পারে এবং তাদের শত্রু হজরত মুহম্মদ (স.) মক্কা ছেড়ে মদিনায় চলে যেতে পারেন।

গ. উদ্দীপকে যুবায়েরের নিজ গ্রাম ছেড়ে অন্য গ্রামে চলে যাওয়া এবং ‘মদিনার পথে’ রচনার বিষয়বস্তু অভিন্ন নয়- মন্তব্যটি যথার্থ।
‘মদিনার পথে’ রচনায় হজরত মুহম্মদ (স.) ইসলামের সত্যবাণী প্রচার করতে গিয়ে দিনরাত শত্রুর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মক্কার অন্যান্য মুসলমানগণ নির্যাতন সইতে না পেরে একে একে মক্কা ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু হজরত মুহম্মদ (স.) হযরত আলী (রা.) ও হজরত আবু বকর (রা.) সহ মক্কায় রয়ে গেলেন। তিনি তাঁর এ দুজন সাথিসহ যেকোনো সময় মক্কা ছেড়ে মদিনা চলে যেতে পারেন। তাই রাতেই দারুন-নদওয়ার বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, কালবিলম্ব না করে হজরত মুহম্মদ (স.) কে হত্যা করা হবে। তাঁকে হত্যার পুরস্কারস্বরূপ একশ উটও পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এ সংবাদ হজরত মুহম্মদ (স.) অবগত হলে তিনিও শেষ পর্যন্ত আল্লাহর নির্দেশে হজরত আবু বকর (রা.)-কে সাথে নিয়ে মদিনার পথে মক্কা ত্যাগ করেন।
উদ্দীপকের যুবায়ের দাড়িয়াপুর গ্রামের একজন হতদরিদ্র শান্তিপ্রিয় কৃষক। পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত মাত্র ত্রিশ শতাংশ জমি চাষাবাদ করে সে কোনো প্রকারে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু তার এ সামান্য জমির ওপরও কুদৃষ্টি পড়ে ভূমিদস্যু মাতব্বর মহসীন সরকারের। সে যুবায়েরের সব জমি দখল করার উদ্যোগ নিলে যুবায়ের তার প্রতিবাদ জানায়। যুবায়ের যাতে তার নিজ জমি ছেড়ে দেয় এজন্য মহসীন সরকার যুবায়েরের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এক সময় যুবায়ের অতিষ্ঠ হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিজগ্রাম ছেড়ে অন্য গ্রামে চলে যায়। মদিনার পথে রচনায় যেমন হজরত মুহম্মদ (স.) শত্রুর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে একসময় মক্কা ছেড়ে মদিনায় চলে যান, তেমনি উদ্দীপকের হতদরিদ্র কৃষক যুবায়েরও ভূমিদস্যু মহসীন সরকারের মিথ্যা মামলার হয়রানির শিকার হয়ে সপরিবারে অন্য গ্রামে চলে যান। এখানে উভয় ক্ষেত্রেই শত্রুর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে নিজ গৃহত্যাগের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়। কিন্তু ব্যতিক্রম হলো, যুবায়ের সপরিবারে তার নিজ গ্রাম ছেড়ে চলে যায় তার পারিবারিক স্বার্থের জন্য। অপরদিকে হজরত মুহম্মদ (স.) তাঁর প্রিয়তম ভক্ত হজরত আবু বকর (রা.)সহ ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে মাতৃভূমি ত্যাগ করেন। তাই যুবায়েরের অন্য গ্রামে চলে যাওয়া এবং মদিনার পথে রচনার বিষয়বস্তু অভিন্ন নয় মন্তব্যটি যথার্থ।

ঘ. উদ্দীপকে যুবায়েরের শান্তিপ্রিয় অথচ প্রতিবাদী দিকটি মদিনার পথে রচনার হজরত মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্রের মাঝেও বিদ্যমান।
মদিনার পথে রচনায় হজরত মুহম্মদ (স.) ইসলামের মহান সত্য প্রচারের জন্য আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত হয়েছিলেন। এজন্য ইসলামের শত্রুরা তাঁর ওপর অকথ্য নির্যাতন চালায়। সে সময় যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন তাদের ওপরও বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালানো হয়। কিন্তু এক পর্যায়ে অত্যাচারিত মুসলমানগণ নির্যাতন সইতে না পেরে একে একে সবাই মক্কা ছেড়ে আবিসিনিয়া ও মদিনায় চলে যান। হযরত মুহম্মদ (স.) ইসলাম ধর্ম প্রচারের স্বার্থে মক্কায় থেকে যান। তিনি অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে সব অত্যাচার নির্যাতন মেনে নিয়ে ইসলামের সত্যবাণী প্রচার অব্যাহত রাখেন। কখনো আল্লাহর কাছে শত্রুর অনিষ্ট কামনা করেননি বা প্রতিশোধ গ্রহণের চেষ্টা করেননি। কিন্তু এক সময় যখন শত্রুরা তাঁকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে তখন তিনি আল্লাহর নির্দেশে মাতৃভূমি ত্যাগ করে মদিনা গমন করেন।
উদ্দীপকের যুবায়ের একজন শান্তিপ্রিয় দরিদ্র কৃষক। পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত মাত্র কিছু জমি সে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে। শান্তিপ্রিয় মানুষেরাই সাধারণত অত্যাচারের শিকার হয়। যুবায়েরের ক্ষেত্রেও তার কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি। ভূমিদস্যু মাতব্বর মহসীন সরকার যখন তার শেষ সম্বল এই জমিটুকু দখল করার চেষ্টা করে তখন সে শান্তিপূর্ণভাবে তার প্রতিবাদ করে। যুবায়ের কখনো এই প্রতিবাদে সহিংস ভূমিকা গ্রহণ করেনি বা গ্রামের জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেনি। আর এই সুযোগটিই কাজে লাগায় ভূমিদস্যু মহসীন। সে যুবায়েরের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে দুর্বলতা ভেবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। অত্যাচারের মাত্রা চরমে উঠে গেলে একসময় সে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অন্য গ্রামে চলে যায়।
মদিনার পথে রচনায় হজরত মুহম্মদ (স.) শত নির্যাতন সত্ত্বেও অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে ইসলামের সত্য ধর্ম প্রচার করে গেছেন। এর ফলে যারা নতুনভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন তাদের ওপরও নেমে আসে অকথ্য নির্যাতন। নির্যাতন সইতে না পেরে অনেকেই মাতৃভূমি মক্কা ছেড়ে বিভিন্ন স্থানে চলে যান। কিন্তু হজরত মুহম্মদ (স.) ইসলাম ধর্ম প্রচারের স্বার্থে সব নির্যাতন সহ্য করে মক্কায় থেকে যান। তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন যে, যুগ যুগ ধরে চলে আসা অসত্য, অন্যায় ও কুসংস্কারে নিমজ্জিত আরববাসীদের মধ্যে পরিবর্তন নিয়ে আসা সহজসাধ্য বিষয় নয়। এজন্য অত্যন্ত, ধৈর্য্য সহকারে ইসলামের সত্যবাণী প্রচার করে যেতে হবে। তাঁর বিশ্বাস ছিল, একটা সময় আসবে যখন কুসংস্কারে নিমজ্জিত আরবের জনগণ সত্যকে উপলব্ধি করে ইসলামের পতাকাতলে সমবেত হবে। এজন্য হজরত মুহম্মদ (স.) শান্তিপূর্ণভাবে এবং ধৈর্য সহকারে আরবের জনগণকে ইসলামের সত্যধর্মে দীক্ষিত করতে থাকেন। কিন্তু অত্যাচারের মাত্রা চরমে পৌঁছলে তিনিও মদিনায় হিজরত করেন এবং সেখানে ইসলামের সভ্যবাণী প্রচার করেন। শত্রুর অত্যাচারে তাঁর এই যে মাতৃভূমি ত্যাগ, তা ছিল এক ধরনের শান্তিপূর্ণ অথচ নীরব প্রতিবাদ। এর ফলে, মক্কার জনগণ একসময় তাদের ভুল উপলব্ধি করতে সক্ষম হয় এবং ইসলামের পতাকাতলে সমবেত হয়। যা হয়তো সহিংস প্রতিবাদে সম্ভব হতো না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত যুবায়েরের শান্তিপ্রিয় ও প্রতিবাদী দিকটি ‘মদিনার পথে’ রচনার হজরত মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্রেও বিদ্যমান- মন্তব্যটি যথার্থ।

অনুশীলনের জন্য আরও প্রশ্নোত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন ২ : সায়মা বুদ্ধিমতী মেয়ে। সে তার পিতার শত্রু ভিলুকে ভালো করে চেনে। একদিন ভিলু এসে সায়মার কাছে তার পিতার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চায়। সায়মা বুঝতে পারে নিশ্চয়ই ভিদুর মতলব ভালো নয়। তাই সে সম্পূর্ণ নিরুত্তর থাকে। ভিলু অনেক চেষ্টা করেও সায়মার মুখ থেকে কোনো কথা বের করতে পারে না। অবশেষে ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে সে সায়মার গায়ে প্রচণ্ড আঘাত করে চলে যায়।

ক. আবু বকর (রা)-এর মেষপালক ভৃত্যের নাম কী?
খ. ‘আবু বকর আতঙ্কে শিহরিয়া উঠিলেন’ – কেন?
গ. উদ্দীপকটি মদিনার পথে রচনার যে ঘটনাকে ইঙ্গিত করে তা বর্ণনা কর।
ঘ. ‘উদ্দীপকটি মদিনার পথে রচনার খণ্ডাংশকে প্রতিফলিত করে মাত্র; সমগ্র বিষয়কে নয়।’ – মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

২ নং প্রশ্নের উত্তর

ক. আবু বকর (রা)-এর মেষপালক ভূত্যের নাম আমর বিন ফোহায়রা।

খ. আসলাম গোত্রের অধিনেতা বারিদার নেতৃত্বে সত্তরজন দুর্ধর্ষ আরব ‘মার’ ‘মার’ শব্দে ছুটে আসছে দেখে আবু বকর (রা) আতঙ্কে শিউরে উঠলেন।
মক্কার কুরাইশরা মহানবি (স) কে হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু করলে তিনি তাঁর প্রিয় সঙ্গী হযরত আবু বকর (রা) কে সঙ্গে নিয়ে রাতের অন্ধকারে ইয়াসরিব অভিমুখে যাত্রা করেন। কুরাইশরা তাঁকে হত্যার জন্য বিভিন্ন ঘাতক দল প্রেরণ করে। একটি ঘাতক দলের প্রধান ছিল আসলাম গোত্রের অধিপতি বারিদা। তার নেতৃত্বে সত্তর জন দুর্ধর্ষ আরব মহানবি (স) ও আবু বকর (রা)কে হত্যার জন্য ‘মার’ ‘মার’ শব্দে ছুটে আসছিল। তাদের দেখে হযরত আবু বকর (রা) আতঙ্কে শিউরে উঠলেন।

গ. উদ্দীপকটি মদিনার পথে রচনার আবু ডোহেল কর্তৃক হযরত আবু বকর (রা)-এর কন্যা আসমার গালে এক চড় বসিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ইঙ্গিত করে।
পিতার শত্রু সন্তানেরও শত্রু। সন্তান কখনো চায় না শত্রু কর্তৃক পিতার কোনো ক্ষতি হোক। তাই পিতৃশত্রুকে প্রশ্রয় দেওয়া কিংবা কোনোভাবে সাহায্য করা যায় না।
উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে, বুদ্ধিমতী মেয়ে সায়মা তার পিতার শত্রু ভিলুকে ভালো করে চেনে। একদিন ভিলু এসে সায়মার কাছে তার পিতার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চায়। সায়মা ভিলুর মতলব বুঝতে পারে। তাই সে সম্পূর্ণ নিরুত্তর থাকে। তার মুখ থেকে কোনো কথা বের করতে না পেরে ভিদু ক্রোধে উন্নত্ত হয়ে সায়মাকে প্রচ আঘাত করে চলে যায়। মদিনার পথে রচনায়ও অনুরূপ একটি ঘটনা রয়েছে। হযরত আবু বকর (রা) যখন মহানবির (স) সঙ্গী হয়ে ইয়াসরিব যাত্রা করেন, তখন তাঁদের চরম শত্রু আবু জেহেল আবু বকর (রা)-এর বাড়িতে এসে দরজায় আঘাত করে। ব্যাপার কি দেখার জন্য আবু বকর (রা)-এর মেয়ে আসমা দরজা খুলে বাইরে এলে আৰু জেহেল আসমাকে তাঁর পিতা কোথায় জিজ্ঞেস করে। আসমা পিতার সম্বন্ধে কোনো খবরই আবু জেহেলকে দিলেন না। তখন রাগে অধীর হয়ে সে বালিকা আসমার গালে এক চড় বসিয়ে দেয়। এ থেকে বোঝা যায়, উদ্দীপকটি মদিনার পথে রচনার উপর্যুক্ত ঘটনাকে ইঙ্গিত করে।

ঘ. উদ্দীপকটি মদিনার পথে রচনার খণ্ডাংশকে প্রতিফলিত করে মাত্র; সমগ্র বিষয়কে নয় – মন্তব্যটি যথার্থ।
যে-কোনো কাহিনিমূলক রচনায় মূলকাহিনির পাশাপাশি বিভিন্ন খণ্ড ক্ষুদ্র ঘটনা সংযোজিত হতে পারে। সাধারণত মূল কাহিনিকে পরিপুষ্ট করার লক্ষ্যে এসব ঘটনার অবতারণা করা হয়। মদিনার পথে রচনায়ও অনুরূপ বিভিন্ন ঘটনার সন্নিবেশ করে মূল কাহিনিকে সুসংহত করা হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে, বুদ্ধিমতী মেয়ে সায়মা তার পিতার শত্রু ভিলুকে ভালো করে চেনে। তাই ভিলু এসে যখন সায়মার কাছে তার পিতার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চায় তখন সায়মা সম্পূর্ণ নিরুত্তর থাকে। ভিলু অনেক চেষ্টা করেও সায়মার মুখ থেকে কোনো কথা বের করতে পারে না। ফলে ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ভি সায়মার গায়ে প্রচণ্ড আঘাত করে চলে যায়। উদ্দীপকে বর্ণিত এ ঘটনায় ‘মদিনার পথে’ রচনার আবু জেহেল কর্তৃক আবু বকর (রা) এর কন্যা আসমার গালে চড় বসিয়ে দেওয়ার ঘটনার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। তবে এ ঘটনাটি ‘মদিনার পথে রচনার খণ্ডাংশ মাত্র। উক্ত রচনার মূল বিষয় হলো মহানবি (স)-এর মক্কা ছেড়ে ইয়াসরিব তথা মদিনায় হিজরতের কাহিনি। এ কাহিনিকে পরিপুষ্ট করার লক্ষ্যে এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সত্য ঘটনা সংযোজিত হয়েছে। এসব ঘটনার প্রত্যেকটি আলোচ্য রচনার এক একটি খণ্ডাংশ মাত্র। উদ্দীপকে যে ঘটনার প্রতিফলন রয়েছে, তা-ও কেবল উক্ত রচনার একটি অংশকেই প্রতিনিধিত্ব করে।
কাজেই, উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উদ্দীপকটি মদিনার পথে রচনার খণ্ডাংশকে প্রতিফলিত করে মাত্র; সমগ্র বিষয়কে নয়।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৩ : হযরত মুহম্মদ (স.) যেদিন হতে সত্য প্রচারের আদেশ পেলেন, সেদিন হতে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সর্বদাই আল্লাহগত প্রাণ ছিলেন। একদিন তিনি এক গাছের নিচে শুয়ে ঘুমাচ্ছিলেন, শত্রু সেই সুযোগে শাণিত তরবারি উত্তোলন করে বল, ‘মুহম্মদ, এখন তোমাকে কে রক্ষা করবে?’ হযরত সেই তরবারির নিচ হতে অকম্পিত কণ্ঠে বললেন, ‘আল্লাহ।’

ক. তুণীর কী?
খ. নবি বারবার অশ্রুসিক্ত চোখে মক্কার দিকে তাকালেন কেন?
গ. উদ্দীপকে মদিনার পথে রচনার কোন ঘটনার প্রতিফলন রয়েছে? বুঝিয়ে লেখ।
ঘ. ‘উদ্দীপকে মদিনার পথে রচনার মূল বিষয় প্রতিফলিত হয়নি’ মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

৩ নং প্রশ্নের উত্তর

ক. তুণীর হলো চামড়া দিয়ে তৈরি তীর রাখার পাত্র।

খ. স্মৃতি-বিজড়িত প্রিয় জন্মভূমি মক্কা ত্যাগ করতে বাধ্য হওয়ায় নবি বারবার অশ্রুসিক্ত চোখে মক্কার দিকে তাকালেন।
হযরতের শৈশবের, বাল্যের, যৌবনের স্মৃতিবিজড়িত স্থান মক্কা। আদর, স্নেহ, প্রেম, অত্যাচার, নির্যাতন সবকিছু মিলে মক্কার মাটির প্রতি তার এক অপূর্ব মায়া রচিত হয়েছিল। এখানেই তিনি থাকতে চেয়েছিলেন, কিন্তু শত্রুর অত্যাচার ও পীড়নের কারণে এবং সর্বোপরি আল্লাহর নির্দেশে তিনি মক্কা ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। কিন্তু স্মৃতিময় মক্কা ছেড়ে যেতে তিনি হৃদয়ে ব্যথা অনুভব করছিলেন। তাই প্রিয় জন্মভূমি মক্কা ছেড়ে যাওয়ার সময় তিনি অশ্রুসিক্ত চোখে বারবার ফিরে তাকাচ্ছিলেন।

গ. উদ্দীপকে মদিনার পথে রচনায় বর্ণিত মহানবির আল্লাহর প্রতি নির্ভরতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
মানুষের জীবন-মরণের মালিক আল্লাহ। মহানবি হযরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন আল্লাহগত প্রাণ। তাঁর দুশমনেরা বারবার তাঁকে হত্যা করার জন্য চেষ্টা করেছে, জগতের বুক থেকে ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছে, কিন্তু মহানবি (স.) কখনো আল্লাহকে বিস্তৃত হননি। তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন, আল্লাহ সহায় থাকলে কেউ তাঁর এবং ইসলামের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মহানবি (স.) জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আল্লাহগত প্রাণ ছিলেন। একদিন তিনি এক গাছের নিচে শুয়ে ঘুমাচ্ছিলেন। এসময় এক শত্রু শাণিত তরবারি উত্তোলন করে বলল, ‘মুহম্মদ, এখন তোমাকে কে রক্ষা করবে?’ হযরত মুহম্মদ (স.) তরবারির নিচ হতে অকম্পিত কণ্ঠে বললেন, ‘আল্লাহ।’ মদিনার পথে রচনায়ও আল্লাহর প্রতি হযরতের এরূপ অবিচল নির্ভরতার দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে। ইসলামের শত্রু সোরাকাকে দেখে হযরত আবুবকর (রা) যখন মহানবিকে বললেন, হযরত, আর রক্ষা নেই, ঐ দেখুন সশস্ত্র শত্রু আমাদের ধরে ফেলল- তখন মহানবির মুখে উদ্বেগ আশঙ্কার চিহ্নমাত্র দেখা গেল না। তিনি পরম বিশ্বাসের সঙ্গে বললেন, ভয় নেই আবু বকর (রা), আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। এতে বোঝা যায়, উদ্দীপকে মদিনার পথে রচনার আল্লাহর প্রতি মহানবির অবিচল বিশ্বাস ও নির্ভরতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

ভাব-সম্প্রসারণ: ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়;
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।

ঘ. উদ্দীপকে মদিনার পথে রচনার মূল বিষয় প্রতিফলিত হয়নি, কেননা উক্ত রচনার মূল বিষয় হলো মহানবি (স.)-এর মাত্রা থেকে মদিনায় হিজরতের ঘটনা।
মহানবি হযরত মুহম্মদ (স.) মক্কায় ইসলামের সত্যবাণী প্রচার শুরু করলে মক্কাবাসী তাঁর এবং নবদীক্ষিত মুসলমানদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালাতে থাকে। এমনকি, নিজেদের ধর্ম বিকৃত হওয়ার ভয়ে শেষ পর্যন্ত তারা হযরতকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে। তখন প্রিয় নবি তাঁর প্রিয় সঙ্গী হযরত আবু বকর (রা)-কে সঙ্গে নিয়ে সবার অগোচরে মক্কা ছেড়ে মদিনায় যাত্রা করেন এবং মদিনাবাসী তাঁকে সাদরে গ্রহণ করে।
উদ্দীপকে মহানবি (স.)-এর আল্লাহর প্রতি গভীর বিশ্বাস ও পরম নির্ভরতার দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে। একদিন মহানবি (স.) এক বৃক্ষের নিচে শুয়ে ঘুমাচ্ছিলেন। এই সুযোগে এক শত্রু শাণিত তরবারি উত্তোলন করে হযরতকে বলল যে, তাঁকে এখন কে রক্ষা করবে। হযরত মুহম্মদ (স.) তরবারির নিচে থেকে অকম্পিত কণ্ঠে জবাব দিলেন, ‘আল্লাহ।’ অপরদিকে মদিনার পথে রচনায় হযরতের আল্লাহর ওপর নির্ভরশীলতার অনুরূপ দৃষ্টান্ত থাকলেও উক্ত রচনার মূল বিষয় হলো হযরতের মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের ঘটনা। মক্কাবাসীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মহানবি তাঁর প্রিয় সাহাবি হযরত আবু বকরকে সঙ্গে নিয়ে মদিনার (স.) পথে যাত্রা করেন। পথমধ্যে তাঁকে হত্যা করার জন্য ইসলামের শত্রুরা নানাভাবে চেষ্টা করলেও অবশেষে তিনি নিরাপদে মদিনায় পৌঁছতে সক্ষম হন। উদ্দীপকে উক্ত ঘটনার কোনো প্রতিফলন লক্ষ করা যায় না।
সুতরাং উপযুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ‘উদ্দীপকে মদিনার পথে।রচনার মূল বিষয় প্রতিফলিত হয়নি’ – মন্তব্যটি যথার্থ ও যৌক্তিক।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৪ : মহানবি (স.) একদিন আরকাম নামক এক সাহাবার গৃহে অবস্থান করছিলেন। আবু বকর (রা), হামজা (রা) ও আলি (রা) তাঁর সঙ্গে ছিলেন। এ সময় ওমরকে দেখে তাঁরা মহানবির জীবন রক্ষার জন্য প্রস্তুত হলেন। কারণ ওমর তখন ছিলেন ইসলাম ও মহানবির ঘোরতর শত্রু। কিন্তু সেদিন ওমর এসে মহানবির পদপ্রান্তে তরবারি সমর্পণ করে বললেন, ‘যুদ্ধ শেষ হয়েছে, এখন আত্মসমর্পণ করতে এসেছি। দয়া করে এই অধমকে আপনার পাক কদমে স্থান দিন।’ এই বলে তিনি উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা করলেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।’

ক. ‘দারুন-নওয়া’ কী?
খ. কুরাইশ যুবকদল ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল কেন?
গ. উদ্দীপকের ঘটনাটি মদিনার পথে রচনার যে ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয় তা বর্ণনা কর।
ঘ. ‘উদ্দীপকটি মদিনার পথে রচনার পূর্ণ প্রতিচ্ছবি নয়।’ মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।

৪ নং প্রশ্নের উত্তর

ক. ‘দারুন-নওয়া’ মক্কার একটি সভাগৃহ।

খ. হযরতের শয্যায় হযরত আলী (রা)-কে শায়িত দেখে এবং হযরতকে না পেয়ে মক্কার যুবকদল ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল।
নওয়ার বৈঠকে আবু জেহেলের প্রস্তাব অনুযায়ী মহানবিকে হত্যার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য মক্কার একদল যুবক মুহম্মদ (স.)-এর বাড়ি ঘেরাও করে। কিন্তু সেদিন রাতে আলী (রা) হযরতের চাদরে নিজেকে আবৃত করে তাঁর শয্যায় শুয়েছিলেন। কুরাইশ যুবকদল হযরতের খোঁজ করতে গিয়ে দেখল মুহম্মদ (স.) নেই, তাঁর শয্যায় শুয়ে আছেন হযরত আলী (রা)। তাই শিকার হাতছাড়া হয়েছে দেখে তারা একেবারে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল।

গ. উদ্দীপকের ঘটনাটি মদিনার পথে রচনার আসলাম গোত্রের অধিনেতা বারিদার মহানবির কাছে আত্মসমর্পণ করে ইসলাম গ্রহণের ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
আল্লাহর মনোনীত একমাত্র ধর্ম ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে মহানবি (স.) বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁকে হত্যা করার জন্য বারবার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু মহানবি (স.) কখনো শত্রুর কাছে আত্মসমর্পণ করেননি, বরং শত্রুরাই তাঁকে হত্যা করতে এসে তাঁর কাছে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে ইসলাম গ্রহণ করেছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে যে, একদিন মহানবি (স.) যখন আরকাম নামক সাহাবার গৃহে অবস্থান করছিলেন তখন তাঁর সঙ্গে ছিলেন আবু বকর (রা), হামজা (রা) ও আলী (রা)। এসময় ওমরকে আসতে দেখে তাঁরা মহানবির জীবন রক্ষার জন্য প্রস্তুত হলেন। কারণ ওমর তখন ছিলেন ইসলাম ও নবির ভয়ংকর শত্রু। কিন্তু ওমর সেদিন শত্রুর মতো আচরণ না করে মহানবি (স.)-এর পদপ্রান্তে তরবারি সমর্পণ করে উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।’ মদিনার পথে রচনায়ও অনুরূপ আত্মসমর্পণের বিবরণ পাওয়া যায়। হযরতের মদিনায় গমনের পথে আসলাম গোত্রের অধিনেতা ‘বারিদা’ সত্তরজন দুর্ধর্ষ সঙ্গী নিয়ে হযরত মুহম্মদ (স.)-কে হত্যা করতে এসেছিল। কিন্তু হযরতের কন্ঠনিঃসৃত কোরানের বাণী শুনে সে অভিভূত হয়ে পড়ে এবং হযরতের হাতে হাত রেখে ইসলাম গ্রহণ করে। মহানবির প্রাণ নিতে এসে অবশেষে দলবলসহ সে মুসলমান হয়ে যায়। এ প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকটি মদিনার পথে রচনার এ ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

ঘ. উদ্দীপকটি মদিনার পথে রচনার পূর্ণ প্রতিচ্ছবি নয়, কেননা এতে উক্ত রচনার একটি ঘটনা প্রতিফলিত হলেও অন্যান্য দিকের প্রতিফলন নেই।
মদিনার পথে রচনায় হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের কাহিনি বিবৃত হয়েছে। মহানবি (স.) মক্কায় ইসলামের সত্যবাণী প্রচার শুরু করলে মক্কাবাসী তাঁর এবং নবদীক্ষিত মুসলমানদের ওপর চরম নির্যাতন চালাতে থাকে। ফলে মহানবি (স.) হযরত আবু বকর (রা)-কে সঙ্গে নিয়ে সবার অগোচরে মদিনার পথে যাত্রা করেন। তাঁর যাত্রাপথের বিভিন্ন দিক উপস্থাপিত হয়েছে মদিনার পথে রচনায়।
উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে, মহানবি (স.) একদিন আরকাম নামক সাহাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তার সঙ্গে ছিলেন আবু বকর (রা), হামজা (রা) ও আলী (রা)। এমন সময় ওমরকে আসতে দেখে তাঁরা মহানবিকে রক্ষার জন্য প্রস্তুত হলেন। কারণ ওমর তখন ছিলেন ইসলাম ও মহানবির ঘোর দুশমন। কিন্তু ওমর সেদিন শত্রুর মতো আচরণ না করে মহানবির পদপ্রান্তে তরবারি সমর্পণ করে ইসলাম গ্রহণ করেন। মদিনার পথে রচনার আসলাম গোত্রের অধিনেতা বারিদার ঘটনার সাথে এ ঘটনার মিল লক্ষ করা যায়। তবে উক্ত রচনার অন্যান্য দিক, যেমন- নদওয়ার বৈঠক, হযরত মুহম্মদ (স.)-কে হত্যা করার জন্য পুরস্কার ঘোষণা, পুরস্কারের লোভে সোরাকাসহ অন্যান্য ঘাতকদের মহানবিকে হত্যার উদ্দেশ্যে বের হওয়া, হযরতের শয্যার আলী (রা)-এর শয়ন ইত্যাদি আনুষঙ্গিক বিষয় ও ঘটনা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি।
তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে মদিনার পথে’ রচনার একটি ঘটনা ছাড়া অন্যান্য ঘটনার প্রতিফলন না থাকায় উদ্দীপকটি উক্ত রচনার পূর্ণ প্রতিচ্ছবি হতে পারেনি।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৫ : মজনু সৌদি আরবে চাকরির জন্য ভিসা পেয়েছে। তাই তাকে জীবিকার জন্য সেখানে যেতে হচ্ছে। সন্ধ্যে ৭.০০ টায় বাংলাদেশ বিমানে ওঠার আগে বাবা-মা, স্ত্রী-পুত্র, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয় স্বজন ও জন্মভূমিকে ছেড়ে যেতে তার ভীষণ কষ্ট হচ্ছিল। তার অন্তর হাহাকার করে উঠল।

ক. দারুন-নদওয়ার বৈঠকে কে ভাষণ দিয়েছিল?
খ. সোরাকা কীভাবে ইসলাম গ্রহণ করেন? বর্ণনা কর।
গ. উদ্দীপকটির সঙ্গে মদিনার পথে প্রবন্ধের সাদৃশ্য কোথায়? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপক ও মদিনার পথে প্রবন্ধের মূলসুর এক ও অভিন্ন বিশ্লেষণ কর।

৫ নং প্রশ্নের উত্তর

ক. দারুন-নদওয়ার বৈঠকে আবু জেহেল ভাষণ দিয়েছিল।

খ. সোরাকা অলৌকিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করে।
সোরাকা শত উটের পুরস্কারের লোভে মহানবি (স.)-কে হত্যার জন্য ঘোড়ায় চড়ে ছুটতে থাকে। পথমধ্যে একখানি পাথরে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গেলে সে কিছুটা দমে যায়। এর কিছুক্ষণ পর তার ঘোড়ার পেছনের পা বালিতে পুঁতে যায়। ভয়ে সোরাকার বুক কেঁপে ওঠে। এই অলৌকিক কর্মকাণ্ডে সে ইসলাম গ্রহণ করে।

গ. উদ্দীপকের মজনু দেশ ছেড়ে সৌদি আরব গিয়েছে। প্রবন্ধে মহানবি (স.) মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করেছেন। এই দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মজনু জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনে সৌদি আরব গিয়েছে। যাওয়ার সময় বাবা-মা, স্ত্রী-পুত্র, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সর্বোপরি জন্মভূমিকে ছেড়ে যেতে তার ভীষণ কষ্ট হয়। এজন্য সে তার অন্তরে বেদনা অনুভব করেছে দারুণভাবে।
মদিনার পথে প্রবন্ধে দেখা যায়, মহানবি (স.) কাফেরদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে আল্লাহর নির্দেশে জন্মভূমি মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করেছেন। যাওয়ার সময় তাঁর শৈশবের, বাল্যের, যৌবনের কত শত স্মৃতি তাঁকে ভীষণ কষ্ট দিতে লাগল। জন্মভূমির মায়া ছেড়ে যেতে তাঁর দুচোখ পানিতে ভরে গেল।

ঘ. উদ্দীপক ও মদিনার পথে প্রবন্ধের মূলসুর এক ও অভিন্ন- উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মজনু জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনে জন্মভূমি ছেড়ে সৌদি আরব গিয়েছে। যাওয়ার সময় বাবা-মা, স্ত্রী-পুত্র, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব সর্বোপরি জন্মভূমিকে ছেড়ে যেতে তার ভীষণ কষ্ট হয়েছে। এজন্য তার অন্তর ব্যথিত হয়েছে। তবু তাকে জন্মভূমি ছেড়ে যেতে হয়েছে জীবিকার প্রয়োজনে।
মদিনার পথে প্রবন্ধে দেখা যায়, কাফেরদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে মহানবি (স.) আল্লাহর নির্দেশে জন্মভূমি মক্কা ছেড়ে মদিনায় হিজরত করেছেন। মক্কায় তাঁর শৈশব, বাল্য, যৌবনকালের নানা স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তাই মক্কা ত্যাগ করার সময় তাঁর ছিন্নমূল অন্তর আর্তবেদনায় হাহাকার করে উঠেছিল। তবু বাধ্য হয়ে আল্লাহর নির্দেশে তাঁকে হিজরত করতে হয়েছিল।
উদ্দীপক ও মদিনার পথে প্রবন্ধে একই বিষয় পরিলক্ষিত হয়। উদ্দীপকে মজনু জীবিকার প্রয়োজনে জন্মভূমিকে ছেড়ে অন্য দেশে চলে যায়, আর প্রবন্ধে মহানবি (স.) আল্লাহর নির্দেশে জন্মভূমি ছেড়ে মদিনায় চলে যান। এইদিক বিবেচনায় বলা যায়, উদ্দীপক ও মদিনার পথে প্রবন্ধের মূলসুর এক ও অভিন্ন- কথাটি যথার্থ।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *