Breaking News
গৃহ প্রবন্ধ

(সাহিত্যপাঠ) এইচএসসি: গৃহ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

গৃহ হচ্ছে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর অর্থাৎ এইচএসসি’র সাহিত্যপাঠের রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এর প্রবন্ধ। গৃহ প্রবন্ধ থেকে বাছাইকৃত সেরা ৫টি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর এবং অনুশীলনের জন্য আরো ৫টি সৃজনশীলসহ মোট ১০টি সৃজনশীল সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

উৎস ও পরিচিতি : ‘গৃহ’ প্রবন্ধটি রচনা করেছেন নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন।

মূলবক্তব্য : রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নারীর অধিকার নিয়ে সবসময় তাঁর লেখনীর মাধ্যমে সরব হয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি সমাজ এমনকি নিজ পরিবারেও নারী যে ধরনের বৈষম্যের শিকার হয় তার যুক্তিনিষ্ঠ বর্ণনা দিয়েছেন ‘গৃহ’ প্রবন্ধে। তিনি পারিবারিক জীবনে নারীর নির্মম কষ্ট আর চরম বঞ্চনার বিষয়টি নিয়েই আলোচ্য প্রবন্ধটি রচনা করেছেন।
প্রবন্ধটির শুরুতেই লেখক গৃহ বা ঘর সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন। তিনি ঘরকে বলেছেন শান্তি-নিকেতন, যেখানে সকল মানুষই আরাম করে, বিশ্রাম নেয়। ফলে গৃহ সকলের কাছেই নিরাপদ ও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই গৃহে নারীর অধিকার কতটুকু তা তিনি বিভিন্ন দৃষ্টান্তের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় সাধারণত বলা হয়ে থাকে, নারীর জন্য বরাদ্দ ‘ঘর’, আর পুরুষের জন্য আছে ‘বাহির’। অর্থাৎ পুরুষ সম্পৃক্ত থাকবে বাইরের জীবন ও জগতের সঙ্গে। অন্যদিকে, গার্হস্থ্য ও পারিবারিক জীবনে সীমাবদ্ধ থাকবে নারী। এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি সমাজে পুরুষের আধিপত্যকে প্রতিষ্ঠিত করে; নারীকে করে তোলে ঘরের সামগ্রী। কিন্তু নারীর সত্যিই কোনো ঘর আছে কিনা— এ নিয়েই তৈরি হতে পারে প্রশ্ন; রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এ প্রশ্নটিই তুলেছেন ‘গৃহ’ প্রবন্ধে। ব্যক্তিগত ও সামাজিক অভিজ্ঞতাসূত্রে তিনি দেখিয়েছেন পুরুষের আধিপত্য ও প্রতিপত্তির কাছে নারীর ঘরও বিপন্ন, ঘর বলে প্রকৃতপক্ষে কিছু নেই । নারীর অর্থ, সম্পদ, সম্পত্তি ও জীবনযাপন – প্রায় সব কিছুর ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে পুরুষ। পারিবারিকভাবে প্রাপ্ত সম্পদ ও সম্পত্তিও দখল করে নিয়েছে পুরুষ। প্রবন্ধটিতে বেশ কিছু ঘটনা বিশ্লেষণ করে রোকেয়া দেখিয়েছেন পুরুষের নিয়ন্ত্রণ ও অভিভাবকত্বে নিজস্ব গৃহের আনন্দ ও অনুভূতি থেকে নারী প্রবলভাবে বঞ্চিত। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর অবস্থান চিহ্নিত করে দেখিয়েছেন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে গৃহ বা ঘর প্রকৃতপক্ষে মানুষের শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তির স্থান।
প্রবন্ধকার রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তাঁর অসাধারণ পাণ্ডিত্য, যুক্তিশীলতা ও প্রাগ্রসর চিন্তাশীলতার মাধ্যমে এই প্রবন্ধে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সমাজভাবনার এক চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়েছেন। তিনি সমাজে নারী-পুরুষের অবস্থার ব্যবধান দেখিয়ে প্রমাণ করেছেন নারী তার গৃহেও আনন্দ ও অনুভূতি থেকে বঞ্চিত। এদিক থেকে এটি তাঁর সমাজভাবনার এক অনন্য দলিল হয়ে উঠেছে।

নামকরণ : মূল বিষয়বস্তুর ওপর ভিত্তি করে ‘গৃহ’ প্রবন্ধটির নামকরণ করা হয়েছে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে গৃহে নারীর অধিকার-বঞ্চনার বাস্তবতাকে ভিত্তি করে এ প্রবন্ধটি রচিত হয়েছে বলে এর নাম ‘গৃহ’ অত্যন্ত সার্থক ও যথার্থ হয়েছে।

রূপশ্রেণি : ‘গৃহ’ একটি সমাজ সচেতনতামূলক প্রবন্ধ।

ভাষারীতি : ‘গৃহ’ একটি সাধু ভাষায় রচিত তৎসম শব্দবহুল প্রবন্ধ।

গৃহ প্রবন্ধের সৃজনশীল

সৃজনশীল প্রশ্ন ১ : সাম্যের গান গাই আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই । বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।

ক. লোককথা অনুযায়ী আপন দুঃখের কথা বলতে গেলে কী হয়?
খ. ‘অধিকাংশ ভারত-নারী গৃহসুখে বঞ্চিতা।’ –কেন?
গ. উদ্দীপকের প্রথম দুই চরণের ভাব কীভাবে গৃহ প্রবন্ধের বিপরীত তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপক ও গৃহ প্রবন্ধের অন্তর্নিহিত আহ্বান এক সুতোয় গাঁথা’ -মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

১ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. লোককথা অনুযায়ী আপন দুঃখের কথা বলতে গেলে পরনিন্দা হয়।

খ. গৃহকে সম্পূর্ণরূপে আপন ভাবতে না পারায় অধিকাংশ ভারত নারী গৃহসুখে বঞ্চিতা।
‘গৃহ’ প্রবন্ধের লেখিকার সমসাময়িক সময়ে ভারতবর্ষের নারীরা ছিল ভীষণভাবে পশ্চাৎপদ। তাদের অধিকার ও স্বাধীনতা বলে তেমন কিছু ছিল না। পিতৃগৃহ, স্বামীগৃহ কোনোখানেই তাদের আবেগ অনুভূতির বিশেষ মূল্য ছিল না। গৃহ যেটাই হোক না কেন কোনোটিতেই নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় গৃহকে তারা আপন বলে ভাবতে পারত না। এ কারণেই তারা ছিল গৃহসুখ থেকে বঞ্চিত।

গ. গৃহ প্রবন্ধের আলোকে পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির স্বরূপ বর্ণনা করো।

ঘ. গৃহ প্রবন্ধে নারীর অধিকার আদায়ের যে মর্মবাণী ধ্বনিত হয়েছে সে প্রসঙ্গটি বিশ্লেষণ করো।

সৃজনশীল প্রশ্ন ২ : জেরিনের স্বামী গোপনে আরেকটা বিয়ে করেছে। বিষয়টা জানতে পেরে জেরিন নিজের জমানো টাকা ও ব্যাংকের ঋণ, দিয়ে ছোট একটি বাড়ি বানিয়ে নেয়। অনেক কষ্ট করে মেয়েটিকে লেখাপড়া করায় জেরিন ও তার মেয়ে দুজনেই আজ স্বাবলম্বী।

ক. ‘নিকেতন’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘তিনি সপত্নী কণ্টক হইতেও বিমুক্ত নহে!’ -উক্তিটির প্রাসঙ্গিকতা বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের জেরিনের বাড়ি তৈরির উদ্যোগ ‘গৃহ’ রচনার কোন প্রসঙ্গকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় জেরিন একজন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব’ —প্রবন্ধের আলোকে উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

২ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. ‘নিকেতন’ শব্দের অর্থ— বাড়ি।

খ. আলোচ্য উক্তিতে কলিমের স্ত্রীর অসুখী জীবনে সতীনের যন্ত্রণার উপস্থিতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
কলিম ভায়রা ভাইয়ের সাথে বিবাদ করায় তার স্ত্রী নিজের বোনের সাথে দেখা করতে পারে না। স্বামীর বাড়িতে নিজের অধিকার নেই বলে বোনকে এ বাড়িতে আসতে বলার সাহসও সে পায় না। ফলে প্রাচুর্যের মাঝে বসবাস করেও মনে শান্তি নেই কলিম পত্নীর। এর ওপর আবার তার স্বামীর অন্য স্ত্রীও রয়েছে। তার অসুখী জীবনযাপনের ইঙ্গিতই রয়েছে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যে।

গ. গৃহ প্রবন্ধ অনুসারে পুরুষ কর্তৃক নারীর গৃহের অধিকার হরণের প্রসঙ্গটি বর্ণনা করো।

ঘ. গৃহ প্রবন্ধের আলোকে গৃহসুখ-বঞ্চিত নারীদের অসুখী জীবনযাপনের স্বরূপ বিশ্লেষণ করো।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৩ : প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে সুলেখা এসএসসি পাশের পর শহরের ভালো একটি কলেজে ভর্তি হবার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু বাদ সাধলেন তার বাবা। তিনি বললেন, ‘দুদিন পর তো তোর বিয়ে হয়ে যাবে। এত লেখাপড়া শিখে কী হবে?’ সুলেখা জানাল, আরও লেখাপড়া শিখে সে শিক্ষক হতে চায়। তার বাবা বললেন, ‘আমাদের পরিবারে মেয়েদের ঘরের বাইরে কোনো কাজে যাওয়ার রীতি নেই।’

ক. রমাসুন্দরীর স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তির অধীশ্বর কে?
খ. প্রাবন্ধিকের মতে বাসরঘরকে ‘কবর’ বলা উচিত কেন?
গ. সুলেখার বাবার মানসিকতার স্বরূপ গৃহ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপক ও গৃহ প্রবন্ধের প্রেক্ষাপট আলাদা হলেও মূলভাব অনেকখানি সমধর্মী’ -মন্তব্যটি সম্পর্কে তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।

৩ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. রমাসুন্দরীর স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তির অধীশ্বর তার দেবর।

খ. বাসরঘরে প্রবেশের পর নারীরা সমস্ত অধিকার ও স্বাধীনতা হারায় বলে লেখিকার মতে বাসরঘরকে ‘কবর’ বলা উচিত।
বাসরঘরের আরেক নাম হলো ‘কোহবর’। এর সাথে মিল রেখে শ্লেষ প্রকাশার্থে ‘গৃহ’ প্রবন্ধের লেখিকা বাসরঘরকে বলেছেন কবর। এর কারণ নারীর বাসরঘরে প্রবেশের মাধ্যমে শ্বশুরবাড়িতে তার নতুন জীবন শুরু হয়। আর এ বাড়িতে আসার পর থেকেই তার ইচ্ছা অনিচ্ছা, আবেগ-অনুভূতির কোনো মূল্য দেওয়া হয় না। প্রচলিত সমাজব্যবস্থায় স্বামীগৃহে নারীকে তার ব্যক্তিস্বাধীনতার অনেকখানিই বিসর্জন দিতে হয়। এ কারণেই লেখিকা বাসরঘরকে ‘কবর’ বলে উপহাস করেছেন।

গ. গৃহ প্রবন্ধের আলোকে নারীর প্রতি পুরুষতান্ত্রিক সমাজের মানসিকতার স্বরূপ ব্যাখ্যা করো।

ঘ. গৃহ প্রবন্ধের মূলভাব বিশ্লেষণ করো।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৪ : নিজ বাড়িতে বকুল ছিল মুক্ত বিহঙ্গের মতো। কিন্তু শ্বশুরবাড়ি আসার পর থেকেই নিজেকে তার খাঁচায় পোরা পাখি। বলে মনে হচ্ছে। প্রাণভরে কোনো কিছুই এখানে করা যায় না। নাচ-গান করা কিংবা বৃষ্টিতে ভেজার মতো কাজকে এ বাড়িতে বাঁকা চোখে দেখা হয়। শাশুড়ি এমন কিছু দেখলেই বলেন, ‘এ বাড়িতে তো ওসব চলবে না।’ বকুল ভেবে পায় না, শ্বশুরবাড়িকে সে কীভাবে আপন বলে ভাববে?

ক. কার উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জ্ঞানার্জনের পথ অধিকতর সুগম হয়?
খ. ‘স্ত্রীলোকদের ‘বন্দিনী’ বলা যাইতে পারে।’ -উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।
গ. বকুলের অভিজ্ঞতা গৃহ প্রবন্ধের কোন দিকটিকে মনে করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. প্রবন্ধের আলোকে বকুলের মতো নারীদের এমন বাস্তবতার কারণ বিশ্লেষণ করো।

৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. স্বামীর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জ্ঞানার্জনের পথ অধিকতর সুগম হয়।

খ. শরাফত উকিলের বাড়িতে নারীদের পরাধীন জীবনযাপনের স্বরূপ দেখে লেখিকা তাদের ‘বন্দিনী’ বলে অভিহিত করেছেন। শরাফত উকিলের বাড়িতে নারীদের স্বাধীনতা বলে কিছু নেই। তারা কোনোদিন ঘরের বাইরে পা রাখেনি, কোনো যানবাহনে চড়েনি। প্রচলিত সমাজব্যবস্থার চাপিয়ে দেওয়া অন্যায় রীতি-নীতিকেই তারা আদর্শ বলে মেনে নিয়েছে। ‘গৃহ’ প্রবন্ধের লেখিকা এ বাড়ির স্ত্রী লোকদের জীবনকে পোষা প্রাণীদের জীবনের সাথে তুলনা করেছেন। তাদের মতোই এই নারীরা যেন চার দেয়ালের অভ্যন্তরে বন্দি জীবন অতিবাহিত করছে।

গ. গৃহ প্রবন্ধে প্রকাশিত নারীদের গৃহহীনতার স্বরূপ বর্ণনা করো।

ঘ. গৃহ প্রবন্ধ অবলম্বনে গৃহসুখ-বঞ্চিত নারীদের মানবেতর জীবনযাপনের কারণ বিশ্লেষণ করো।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৫ : আমি চিত্রাঙ্গদা
প্রশ্ন দেবী নহি, নহি আমি সামান্যা রমণী।
পূজা করি রাখিবে মাথায়, সেও আমি নই;
অবহেলা করি পুষিয়া রাখিবে
পিছে, সেও আমি নহি। যদি পার্শ্বে রাখো
মোরে সংকটের পথে, দুরূহ চিন্তার
যদি অংশ দাও, যদি অনুমতি করো
কঠিন ব্রতের তব সহায় হইতে,
যদি সুখে-দুঃখে মোরে করো সহচরী
আমার পাইবে তবে পরিচয়।

ক. শরাফত উকিলের স্ত্রীর নাম কী?
খ. ‘এরূপ না করিলে আর ক্ষমতাশালী পুরুষের বাহাদুরি কী?’ কোন প্রসঙ্গে কথাটি বলা হয়েছে? বুঝিয়ে লেখো।
গ. উদ্দীপকের মূলভাবের সাথে গৃহ প্রবন্ধের মূলভাবের পার্থক্য নির্ণয় করো।
ঘ. গৃহ প্রবন্ধে উল্লিখিত নারীদের করুণ বাস্তবতার অবসানের প্রেরণা রয়েছে উদ্দীপকে -মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই করো।

৫ নম্বর প্রশ্নের উত্তর

ক. শরাফত উকিলের স্ত্রীর নাম হসিনা।

খ. স্ত্রীর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাঁকে অন্যায়ভাবে ঠকিয়েছেন বলে আলোচ্য উক্তিতে হাশেমের প্রতি তীব্র শ্লেষ প্রকাশ করেছেন লেখিকা। ‘গৃহ’ প্রবন্ধে উল্লিখিত খদিজা প্রভূত সম্পত্তির উত্তরাধিকারিণী। তাঁর দরিদ্র, বিদ্বান ও কুলীন স্বামী হাশেম কৌশলে সমস্ত জমিজমা আত্মসাৎ করে নেন। শুধু তাই নয়, খদিজার বাড়িতে থেকেই তিনি আরও দু তিনটি বিয়ে করেন। স্ত্রীকে দুর্বল পেয়ে হাশেমের এই চরম অন্যায়কে লেখিকা ‘ক্ষমতাশালী পুরুষের বাহাদুরি’ বলে ব্যঙ্গ করেছেন। আলোচ্য উক্তিতে নারী পীড়নকারী অসাধু পুরুষদের ওপর চরম বিতৃষ্ণা প্রকাশিত হয়েছে।

গ. গৃহ প্রবন্ধে বর্ণিত নারীদের প্রতি অবহেলার দিকটি ব্যাখ্যা করো।

ঘ. গৃহ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের প্রত্যাশার দিকটি বিশ্লেষণ করো।

অনুশীলনের জন্য আরও প্রশ্ন

সৃজনশীল প্রশ্ন ৬ : তিন তিনবার বাড়ি ভেঙে গিয়েছে ধরলার পেটে। তবুও নতুন করে বাঁচার আশায় নদীর তীরেই বারবার ঘর বেঁধেছেন ৭৫ বছরের জোসনা বালা। সেই ঘরসহ সমস্ত জমিও ধরলার ভাঙনে বিলীন হয়েছে। জোসনা বালার সামনে এখন কেবলই অনিশ্চিত গন্তব্য।

ক. রানিকে কী বললে অত্যুক্তি হয় না?
খ. প্রবীণা মুহিলাগণ খাদিজার নিন্দা করেন কেন?
গ. জোসনা বালা ও গৃহ প্রবন্ধের রমাসুন্দরীর মাঝে অমিল কোথায়? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপক ও গৃহ প্রবন্ধের অনুভব এক নয়’ -মন্তব্যটির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৭ : রুটি-রুজির টানে ছুটতে গিয়েই মৃত্যু হলো তাঁর। পরিচারিকার কাজ করতে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। হায়দ্রাবাদের বছর পঁচিশের যুবতী আসিমা খাতুন। সেখানে তাঁকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়, গায়ে লাগিয়ে দেওয়া হয় আগুন। শেষমেশ হাসপাতালে মারাই গেলেন আসিমা। গত ডিসেম্বরে সৌদি আরব যান আসিমা। তাঁর মালিক আবদুর রহমান আলি মহম্মদ তাঁকে কথায় কথায় পেটাতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘর বন্ধ করে আসিমার ওপর চালানো হতো অত্যাচার। গায়ে আগুনের ছ্যাঁকা দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।

ক. ‘ত্রিতল’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ‘কেবল চারি প্রাচীরের ভিতর থাকিলেই গৃহে থাকা হয় না।’ – লেখিকা কথাটি কেন বলেছেন?
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘গৃহ’ প্রবন্ধের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকটি যেন ‘গৃহ’ প্রবন্ধের মূলভাবকেই ধারণ করে আছে’ -মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৮ : সড়ক দুর্ঘটনায় মাসখানেক আগে অকালেই মারা যায় তানিয়ার স্বামী সোহান। তানিয়া ভাবে শ্বশুরবাড়িতে সে থাকার অধিকার হারিয়েছে। তাই বাবার বাড়ি ফিরে যাবার কথা শ্বশুরকে জানালে তিনি বলেন, ‘মাগো, এ বাড়িতে বউ হয়ে আসার পর থেকে তোমাকে আমার মেয়ে বলেই জেনেছি। এ বাড়িতে সোহানের যতখানি অধিকার ছিল, তোমারও ঠিক ততখানিই অধিকার’।

ক. লেখিকা কাকে তাঁর বাসায় যেতে অনুরোধ করলেন?
খ. সলিমের বাড়িতে কলিমের পত্নীর প্রবেশ নিষেধ কেন?
গ. তানিয়ার শ্বশুরবাড়ি ত্যাগের ভাবনার কারণটি ‘গৃহ’ প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘নারীর বাসস্থানের স্বাভাবিক অধিকার সংরক্ষণে আমাদের সচেতন থাকা উচিত’। -প্রবন্ধ ও উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৯ : প্রচলিত সমাজব্যবস্থায় পুরুষ নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চেষ্টায় নারীকে কোণঠাসা করে রেখেছে। যার কারণে নারী তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কবি কামিনী রায় তাই পৃথিবীতে সেই দেবতার আগমন কামনা করেছেন যাঁকে দিয়ে নারী-পুরুষের সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে—
মানব সবাই নয় গো মানব, কেহ বা দৈত্য, কেহ বা দানব,
উৎপীড়ন করে দুর্বল নরে, তাদের তরে সে ভরসা নাহি,
ধরায় দেবের প্রতিষ্ঠা চাহি।

ক. ‘গৃহ’ প্রবন্ধের রচয়িতা কাকে দেখে হতাশ হলেন?
খ. ‘অনেকের মতে চক্ষু মনের দর্পণস্বরূপ’ –উক্তিটির প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের কবিতায় পুরুষের প্রতি যে আস্থাহীনতার দিক লক্ষ করা যায় তার স্বরূপ ‘গৃহ’ প্রবন্ধের আলোকে বর্ণনা করো।
ঘ. নারীর অধিকার আদায়ের দৃষ্টিকোণ থেকে কামিনী রায় ও ‘গৃহ’ প্রবন্ধের লেখিকা কি একসূত্রে গাঁথা? বিশ্লেষণী মতামত দাও।

সৃজনশীল প্রশ্ন ১০ : শেফালী খাতুন পুরুষের সঙ্গে সমানতালে কাজ করেন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। মাথায় সমান সংখ্যক ইট নেওয়া, সমপরিমাণ বালির ডালি নেওয়াসহ সব কাজ করেন পুরুষের সমান; কিন্তু দিন শেষে তার পুরুষ সহকর্মীরা ৩৫০ টাকা করে পেলেও সেলিনা পান ২৭০ টাকা। তিনি এখানে প্রায় ১৮ মাস ধরে কাজ করছেন। তার সঙ্গে আরও অনেক নারী শ্রমিক কাজ করেন, তারাও এই মজুরি বৈষম্যের শিকার হতেন। যে নারী পুরুষদের গর্ভে ধারণ করে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ত্যাগ স্বীকার করলেন আর সেই পুরুষ জাতিই দেয় না তাকে ন্যায্য মজুরি।

ক. শরাফত উকিলের স্ত্রীর নাম কী?
খ. ‘ইনি হয়ত দেবর-পত্নীর সাথে কোঁদল করেন।’ লেখিকার এমন মনে হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের শেফালী খাতুনের সঙ্গে ‘গৃহ’ প্রবন্ধের কাদের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের শেফালী খাতুন কেন মজুরি বৈষম্যের শিকার হন তা ‘গৃহ’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

About admin

Check Also

মানব-কল্যাণ

(সাহিত্যপাঠ) এইচএসসি: মানব-কল্যাণ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর

মানব-কল্যাণ হচ্ছে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর অর্থাৎ এইচএসসি’র সাহিত্যপাঠের আবুল ফজল এর প্রবন্ধ। মানব-কল্যাণ প্রবন্ধ থেকে বাছাইকৃত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *